বেসরকারি স্কুলের অনুমোদনে ১০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ! তামিলনাড়ুর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী গ্রেফতার

সবদিক নিউজ: তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হল প্রাক্তন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী তথা ডিএমকে (DMK) নেতা অনবিল মহেশ পৈয়ামোঝির (Anbil Mahesh Poyyamozhi) গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে। বেসরকারি স্কুলগুলিকে সরকারি অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার চেন্নাই পুলিশের সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে মাদ্রাজ হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। অভিযোগ, স্কুলের অনুমোদন দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। যদিও মহেশ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। ফলে এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চাপানউতোর।
১০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগে তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী গ্রেফতার
২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন মহেশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই সময় এক হাজারেরও বেশি বেসরকারি স্কুলকে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছিল। অনুমোদনের বিনিময়ে সংগৃহীত অর্থ দলীয় তহবিলে জমা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি এবং অর্থের প্রকৃত গন্তব্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। চেন্নাই পুলিশের পাশাপাশি মামলার তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিসিবি এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করে। পরে অবৈধ আর্থিক লেনদেন, অর্থ পাচার এবং তহবিল তছরুপের মতো অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় (Tamil Nadu)।
যুদ্ধের উত্তেজনার আবহেই অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন! নেপথে রয়েছে কোন কারণ?
এই মামলার সূত্রপাত তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের পতনের পর বলে জানা গিয়েছে। বেসরকারি স্কুলগুলির একটি সংগঠনের তরফে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মামলায় আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। গত জুন মাসে এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি, ব্যাঙ্কের লেনদেনের বিবরণ এবং ১৮টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ-সহ অন্যান্য সামগ্রীও তদন্তকারীরা নিজেদের হেফাজতে নেন বলে জানা গিয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা নথি ও বৈদ্যুতিন সামগ্রী খতিয়ে দেখে আর্থিক লেনদেনের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, মহেশের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। টিভিকে-র বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে ডিএমকেও। ফলে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘাতও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সচিবালয় ও বিধানসভা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছিলেন মহেশ। সেই বিষয়টিও বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও ওই সমালোচনার সঙ্গে তাঁর গ্রেপ্তারির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

শত্রুদের উড়বে ঘুম! সীমান্তে আরও শক্তিশালী হবে নিরাপত্তা, ২.১২ লক্ষ কোটির প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন
এখন তদন্তকারীদের নজর মূলত বেসরকারি স্কুলগুলিকে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন এবং বাজেয়াপ্ত করা নথিপত্রের উপর। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ, লেনদেনের প্রকৃতি এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। একদিকে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাল্টা দাবি—দুইয়ের টানাপড়েনে মামলাটি এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে পুলিশের তদন্ত এবং ইডির অনুসন্ধানে কী তথ্য উঠে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি (Tamil Nadu)।




