মালদহে কালো সোনা! বিশেষ ধরনের ধান চাষ করে সাফল্য পেলেন কৃষক রতন প্রামাণিক | Malda Farmer Ratan Pramanik Finds Success With Black Rice Cultivation

অনন্যা সরকার, মালদহ: দেখতে কালো রঙের (Black Rice) হতে পারে, তবে পুষ্টিগুণে দশ গোল দেবে সাধারণ চালকে। এমনই এক বিশেষ ধরনের ধান চাষ করে নজর কেড়েছেন মালদহের এক কৃষক। হাবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডীর বাসিন্দা রতন প্রামাণিক প্রায় ১০ কাঠা জমিতে এই বিশেষ কালো ধান চাষে সাফল্য পেয়েছেন। সারা বছর কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকা রতনবাবু, প্রায়শই ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে চাষাবাদের নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। সেখান থেকেই এই কালো ধান চাষের ভাবনাটা মাথায় আসে।
কালো চালের চাষে সাফল্য মালদহের কৃষকের
ইউটিউব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বিকল্প ফসল হিসেবে কালো ধান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি এই বিশেষ জাতের ধানের বীজ তিনি সুদূর মণিপুর রাজ্য থেকে সংগ্রহ করে আনেন মালদহে। রতন প্রামাণিক জানান, গত বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এটি চাষ করা শুরু করেন, এ বছর আবারও চাষ করেছেন এবং ফলনও হয়েছে চমৎকার। অন্যান্য ধানের মতোই তিনি এটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই ধান চাষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কৃষক।
প্রসঙ্গত, এই বিশেষ কালো চালটির বিষয়ে মালদহের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী দুষ্মন্ত কুমার রাঘব জানান যে, কালো চালের এই প্রাচীন প্রকারটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে গৌতম বুদ্ধের সময়কাল থেকেই এর চাষ হয়ে আসছে। তবে, এই ঐতিহ্যবাহী জাতটির ফলন কম হয়। বর্তমানে কালো চালের আরও অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের সন্ধান পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: মাত্র ৬ মাস বয়সেই বিশ্বরেকর্ড শিশু কন্যার! বিরাট কীর্তি হুগলির খানাকুলের ছোট্ট খুঁদের
কৃষি বিজ্ঞানীরা এ-ও জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি কালো চালের বেশ কয়েকটি নতুন প্রকার উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুসা নরেন্দ্র কালো নামকের (Pusa Narendra Black Salt) ১, ২ ও ৩ – এই তিনটি প্রজাতি। এই ধানের জাতগুলো থেকে প্রতি হেক্টরে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া, এই চাল পুষ্টিগুণেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক ও আয়রন রয়েছে, যা বিশেষত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
আরও পড়ুন: বিনা টিকিটে ধরা পড়লেই শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ! TTE-দের সুরক্ষায় রেল বোর্ডকে চিঠি
ফলে স্বাভাবিকভাবেই, অন্যান্য চালের তুলনায় বাজারে এই চালের দামও বেশি। যেসব কৃষক এই নতুন প্রজাতিগুলো চাষ করতে আগ্রহী, তাদের মালদহ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিকল্প চাষাবাদের পদ্ধতির প্রতি স্থানীয় কৃষকদের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ জেলার কৃষি ক্ষেত্রের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। অনেকেই মনে করছেন যে, কালো চালের এই পরীক্ষামূলক চাষাবাদ ভবিষ্যতে মালদহের কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের একটি কার্যকর উৎস হয়ে উঠতে পারে।



