0%

BJP MLA Sourav Sikdar brings electric light to the family who waits since 50 years

বিমানবন্দরের ঝলমলে আলো চোখে পড়ে এখান থেকেও। অথচ সেই আলোর শহরেরই এক কোণে, উত্তর দমদমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্লোব নার্সারি এলাকায়, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কেটেছে আরতি মণ্ডলের পরিবারের। সন্ধ্যা নামলেই কেরোসিনের ল্যাম্প, গরমে হাতপাখা আর অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই ছিল নিত্যসঙ্গী। সেই অন্ধকারেই একে একে চলে গিয়েছেন শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী। নাতনি বড় হয়েছে ল্যাম্পের আলোয় পড়াশোনা করে। বহুবার আবেদন করেও মেলেনি বিদ্যুতের সংযোগ। শেষ বয়সে এসে আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব আরতি দেবী। কিন্তু পরিবারের দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে উদ্যোগ নেন বিধায়ক সৌরভ সিকদার। আর যে কাজ পাঁচ দশকেও হয়নি, তা সম্পন্ন হয় মাত্র সাতদিনে।

আরতি মণ্ডলের কথায়, “আমি কত বছর ধরে ঘুরেছি, কতজনের কাছে গিয়েছি, এখন আর সব মনে নেই। সারা জীবন লোকের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছি। আমার স্বামী আলো-পাখার সুবিধা না পেয়েই মারা গিয়েছে। ভাবিনি কোনওদিন ঘরে কারেন্ট আসবে। আজ খুব খুশি।” আরও আবেগঘন গলায় তাঁর সংযোজন, “শ্বশুর-শাশুড়ি অন্ধকারে মারা গিয়েছে, আমার স্বামীও অন্ধকারে চলে গিয়েছে। এত বছর পরে আমি আলো দেখতে পেলাম। এখন মনে হচ্ছে বাকি জীবনটা অন্তত আলোতে কাটাতে পারব।”

নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রথম পরিবারের সমস্যার কথা জানতে পারেন উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার। সেই সময় তিনি সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর বিষয়টি সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে দাবি বিধায়কের। এরপর আবেদন জমা পড়ে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছে যায় বিদ্যুৎ।

এতদিন পর বিদ্যুুৎ পেয়ে আনন্দাশ্রু আরতিদেবীর! নিজস্ব ছবি

এ যেন স্বপ্নের মতো! আরতি মণ্ডলের কথায়, “আমি কত বছর ধরে ঘুরেছি, কতজনের কাছে গিয়েছি, এখন আর সব মনে নেই। সারা জীবন লোকের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছি। আমার স্বামী আলো-পাখার সুবিধা না পেয়েই মারা গিয়েছে। ভাবিনি কোনওদিন ঘরে কারেন্ট আসবে। আজ খুব খুশি।” আরও আবেগঘন গলায় তাঁর সংযোজন, “শ্বশুর-শাশুড়ি অন্ধকারে মারা গিয়েছে, আমার স্বামীও অন্ধকারে চলে গিয়েছে। এত বছর পরে আমি আলো দেখতে পেলাম। এখন মনে হচ্ছে বাকি জীবনটা অন্তত আলোতে কাটাতে পারব।” নাতনি বৃষ্টি বলছেন, “ল্যাম্পের আলোয় পড়াশোনা করেছি। বহু জায়গায় গিয়েও সাহায্য পাইনি। বিধায়ককে বলেছিলাম, উনি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমি বিশ্বাস করেছিলাম। আজ উনি কথা রেখেছেন। আমাদের কাছে এটা স্বপ্নপূরণের মতো।”

পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার কথা জেনে অন্নপূর্ণা যোজনা, উজ্জ্বলা, আবাসন ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক সৌরভ সিকদার। তাঁর দাবি, “বিমানবন্দরের এত কাছে একটি পরিবার ৫০ বছর বিদ্যুৎহীন ছিল, এটা যে কোনও সরকারের জন্য লজ্জার। খবর পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের কর্তব্য।” বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। যে বাড়িতে এতদিন সন্ধ্যা নামলেই জ্বলত কেরোসিনের ল্যাম্প, সেখানে এখন জ্বলছে বৈদ্যুতিক আলো। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অপেক্ষার অবসান হওয়ায় খুশি আরতি মণ্ডল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker