Calcutta High Court Stay Order On Hawker Eviction

সবদিক নিউজ: শিয়ালদহ, হাওড়া থেকে শুরু করে রাজ্যের কোণায় কোণায় চলা হকার উচ্ছেদ অভিযানের জেরে যখন হাজার হাজার খেটে খাওয়া পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল, ঠিক তখনই হকারদের জন্য এক মস্ত বড় ‘লাইফলাইন’ এনে দিল দেশের বিচারব্যবস্থা। বঙ্গে নতুন সরকারের কড়া হকার উচ্ছেদ নীতির ওপর এবার আইনি কোপ বসাল আদালত। বুধবার এক ঐতিহাসিক শুনানিতে হকার উচ্ছেদের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গানগর, মথুরাপুর ও যাদবপুর-সহ রাজ্যের যেসব রেল স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল, জুন মাস পর্যন্ত সেই সমস্ত পুরনো নোটিস কার্যকর করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উচ্চ আদালত।
“জীবিকার অধিকার কেড়ে নেওয়া সংবিধান বিরোধী!”, আদালতে গর্জে উঠলেন বিকাশ
এদিন মামলাকারীদের পক্ষে কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করতে নেমে রাজ্য ও কেন্দ্র, দুই সরকারের বিরুদ্ধেই চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি জোর গলায় বলেন, “যে অমানবিক উপায়ে এই উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে, তাতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য, কেউই এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার এভাবে খর্ব করা যায় না। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যেখানে সরকারের কাজ, সেখানে রাষ্ট্র তাঁদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করছে! মধ্যরাতে বুলডোজার পাঠিয়ে গরিবের রুটি-রুজি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।”
বিকাশবাবু আরও এক সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ মনে করিয়ে দিয়ে যুক্তি দেন যে, কেউ যদি রেলের জমিতে বসে পড়েন এবং প্রাথমিক অবস্থায় তাঁকে বাধা না দেওয়া হয়, তবে দুই-তিন দশক পর তাঁকে এভাবে হঠাৎ রাতারাতি উচ্ছেদ করা যায় না।
সই-তারিখ ছাড়াই নোটিস! পাল্টা যুক্তি রেলের
অন্যান্য মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, “বারুইপুর বা ডানকুনির মতো বহু জায়গায় হকারদের যে উচ্ছেদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেই নোটিসে কোনও সই বা তারিখই নেই! ১৯৯৫ সাল থেকে লাইসেন্স পাওয়া পরিবারগুলিকেও উধাও করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।”
যদিও এর জবাবে রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, ১৮৮১ সালেই ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিল, যা আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি। তাই নিয়মানুযায়ী এই উচ্ছেদ।
লাইসেন্সধারীদেরও তোলা হচ্ছে? রিপোর্ট তলব আদালতের
সবপক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য (Justice Hironmay Bhattacharyya) প্রশ্ন তোলেন, “রেলের জায়গা বা প্ল্যাটফর্ম যদি কেউ বেআইনিভাবে দখল করে, তবে রেল কি তাঁদের তুলবে না? তবে রেল যে সমস্ত জায়গায় স্টল করে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল বা যাঁদের কাছে বৈধ লাইসেন্স আছে, তাঁদেরও কি উচ্ছেদ করা হয়েছে?” এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জুনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। আর এই রিপোর্টের ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের কোথাও নতুন করে হকার উচ্ছেদ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আদালত, যা বাংলার লক্ষাধিক হকার পরিবারের কাছে এক পরম স্বস্তি।



