0%

FIR Lodged Against Abhishek Banerjee

সবদিক নিউজ: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্বপ্নের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’ (Sebashroy) হেলথ ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম ও হাড়হিম করা কেলেঙ্কারি ফাঁস হল। হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা থেকে শুরু করে রোগীদের মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিলি করার ভুরি ভুরি অভিযোগ তো ছিলই, এবার সামনে এল এক জলজ্যান্ত ও মর্মান্তিক প্রমাণ। চিকিৎসা করাতে গিয়ে ‘সেবাশ্রয়’-এর ভুল চিকিৎসার কারণে আস্ত একটি পা খোয়াতে হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক অসহায় মহিলাকে! এই ভয়ঙ্কর কাণ্ডে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে কলকাতার রবীন্দ্রনগর থানায় (Rabindranagar PS) লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন ওই নির্যাতিতা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস গত কিছুদিন আগে তীব্র হাঁটুর ব্যথা নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে চিকিৎসার আশায় গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে তাঁর প্রাথমিক চেকআপের পর কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ওষুধ খাওয়ার পরেই তাঁর হাঁটুর ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং পা ফুলতে শুরু করে। পুনরায় সেবাশ্রয়ে গেলে তড়িঘড়ি তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

সেখানকার চিকিৎসকেরা পা দেখেই আঁতকে ওঠেন এবং জানান যে ভুল চিকিৎসার কারণে পায়ের চামড়া ও মাংসপেশি পচে অকেজো হয়ে গিয়েছে। এরপর এমআর বাঙুর থেকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল এবং অবশেষে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। এই লাগাতার ‘রেফার রোগে’ দিনের পর দিন সময় নষ্ট হওয়ায় ইনফেকশন পুরো পায়ে ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে চিকিৎসকেরা বাধ্য হয়ে অস্ত্রোপচার করে মালতীদেবীর একটি পা কেটে বাদ দিয়ে দেন। এই করুণ পরিণতির পর অভিষেকের টিম কোনও দায়িত্ব না নেওয়ায়, রাজ্যে পালাবদলের পর অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।

“হোমিওপ্যাথি ডাক্তার দিয়ে মডার্ন ট্রিটমেন্ট!”, সেবাশ্রয়ের পর্দাফাঁস করে বিস্ফোরক বিজেপি নেতা

এই মেগা কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) আগে থেকেই একাধিকবার সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “সেবাশ্রয়ের নামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ড হারবারবাসীকে স্রেফ টুপি পরিয়েছেন। সেখানে কোনও নামী ডাক্তার থাকত না, আনা হত কোনও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া হাতুড়ে ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের, আর তাঁদের দিয়েই করানো হত অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা!”

বিজেপি নেতার প্রকাশ করা একটি প্রেসক্রিপশনে দেখা গিয়েছে, সেখানে রোগীর নাম-বয়স থাকলেও রোগের কোনও বিবরণ নেই, কোনও চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও নেই; শুধু লেখা ‘রেফার্ড টু হসপিটাল’। এমনকি সেবাশ্রয়ে ব্যবহৃত ইউএসজি (USG) মেশিনের কোনো আইনি সরকারি অনুমতি ছিল না বলেও অভিযোগ।

জোর করে ভিড় জমানো থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, আইনি ফাসে ‘নটবরলাল’

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, সেবাশ্রয় প্রকল্পকে সফল দেখাতে এবং সংবাদমাধ্যমে প্রচার করতে এলাকার সাধারণ মানুষকে জোর করে ধরে এনে ভিড় বাড়ানো হত। একই সঙ্গে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া ওষুধ রোগীদের দেওয়া হতো, যা আদতে বিষের সমান। বিজেপি নেতা ইতিপূর্বেই এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগের কপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি-র কাছে পাঠিয়েছিলেন। এবার মালতী বিশ্বাসের পা বাদ যাওয়ার ঘটনাটি সেই সমস্ত অভিযোগের একটি অকাট্য ও জলজ্যান্ত প্রমাণ হিসেবে সামনে আসায়, প্রাক্তন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি ও রাজনৈতিক অস্বস্তি যে চরম সীমায় পৌঁছাল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker