0%

Tihar Jail Food: মুখে রুচছে না জেলের খাবার, চাই রেড মিট, চিকেন, চিংড়ি-পাস্তা, আদালতের দ্বারস্থ তিহাড়ের মার্কিন বন্দি

নয়া দিল্লি: সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অভিযুক্ত। বর্তমানে তিহাড় জেলের (Tihar Jail) বিচারাধীন বন্দি। অভিযোগ, জেলে খাবার তাঁর মুখে রুচছে না। খাবার না খেয়েই ৫০ দিন ধরে অনশনও করছেন বলে জানা গিয়েছে। এবার নিজের পছন্দের খাবারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হলেন ওই বন্দী। তার আরও দাবি, জেলের ভিতর নিজের খাবার (Tihar Jail Food) নিজেই তৈরি করে নেবেন তিনি। এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

৫০ দিন ধরে অনশন মার্কিন বন্দির

আসলে ওই বন্দী একজন মার্কিন নাগরিক। নাম ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক। দিল্লি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ওই বন্দির দাবি, তিহারে ঝাল, তেলযুক্ত, মশলাদার, ভাজাভুজি খাবার দেওয়া হয়। একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভারতীয় জেলের খাবারের সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত নন। ওই খাবার খেয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ভ্যানডাইকের আরও দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৩০ পাউন্ড (প্রায় ১৪ কেজি) ওজন কমেছে তাঁর। দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক সক্ষমতাও কমে গিয়েছে।

খাবার খেতে না পেরে গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে অনশন করছেন ভ্যানডাইক। ভ্যানডাইকের আইনজীবী আদালতে জানান, মানবিক কারণেই এই আবেদন করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা খাবার, রান্নার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সমস্ত খরচ বহন করতে রাজি।

কোন কোন খাবারের আবেদন করেছেন?

কোন কোন খাবার তাঁর প্রয়োজন, তাও উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে। খাবারের তালিকায় রয়েছে ডাল, রেড মিট, চিকেন, চিংড়ি, পাস্তা, নুডলস, চাল, আলু, পেঁয়াজ, বিভিন্ন ধরনের বিনস, মশলা, পাউরুটি, মাখন, অলিভ অয়েল, টোনড দুধ, সয়া মিল্ক। এই খাবারগুলি জেলে রাখার অনুমতি চেয়েছেন। পাশাপাশি যাতে নিজেই রান্না করতে পারেন, তার জন্য একটি ইনডাকশন কুকার, হাঁড়ি, বাটি ও প্লাস্টিকের চপারের আবেদন করেছেন। আদালত তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জবাব তলব করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ জুলাই।

ভ্যানডাইকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

গত ১৩ মার্চ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ছয় ইউক্রেনের নাগরিকের সঙ্গে ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করে এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। এনআইএ-র দাবি, অভিযুক্তদের নিষিদ্ধ ভারতীয় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তারা অস্ত্র ও অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণও দিয়েছে। জেরায় অভিযুক্তরা একে-৪৭ রাইফেলধারী সশস্ত্র জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ১৪ জন ইউক্রেনের নাগরিক পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে প্রথমে গুয়াহাটি এবং পরে মিজ়োরামে যান। সেখান থেকে অনুমতি ছাড়াই মায়ানমারে প্রবেশ করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ইউরোপ থেকে ড্রোন সরবরাহে সাহায্য করার অভিযোগও উঠেছে। ভ্যানডাইক-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে UAPA-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে এনআইএ। তদন্ত এখনও চলছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker