Iran Supreme Leader : নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতাবা, ইরানের নেতৃত্বে খামেনেইয়ের পুত্র

তেহরান : আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের উত্তরসুরী ঘোষণা করল ইরান। সেদেশের কুর্সিতে বসতে চলেছেন খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতাবা খামেনেই। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে। ইরানের উপর ইজ়রায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই। ওই হামলায় মারা যান তাঁর স্ত্রী, কন্যা, জামাই, নাতি-নাতনির মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই ইরানের সুপ্রিম লিডার কে হবেন, সেই নিয়ে জল্পনা চলছিল। সুপ্রিম লিডার হওয়ার দৌঁড়ে ছিলেন খামনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্রও। শেষপর্যন্ত তাঁকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়েছিল। এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে ছিলেন আয়াতোল্লা আলিরেজ়া আরাফি। এছাড়াও কাউন্সিলে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও প্রধান বিচারপতি মোহসেনি এজেই। ইরানে শাসনের অন্তর্বতী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই তিন সদস্যের কাউন্সিলকে। ইরানের অন্তর্বর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আয়াতোল্লা আলিরেজ়া আরাফি। খামেনেই তাঁর উত্তরসুরী ঘোষণা করে যায়নি। তাই ইরানের দায়িত্ব কে নেবেন, সেই নিয়ে জল্পনা চলছিল। একাধিক নাম উঠে আসছিল। ইরানের সংবাদমাধ্যসূত্রে খবর, ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স’ খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবাকেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে বেছে নিয়েছে।
মোজতাবা খামেনেই
বছর ৫৬-র মোজতাবা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছেন। যদিও তা অঘোষিত। এছাড়া একাধিক শিয়া মুসলিম সংগঠনের শীর্ষ পদেও রয়েছেন তিনি। সেই মোজতাবা খামেনেই এখন ইরানের মাথা। জানা গিয়েছে, এবার যুদ্ধের নেতত্ব দেবেন মোজতাবা।
প্রসঙ্গত, ইরানের সুপ্রিম লিডার হওয়ার দৌঁড়ে দুই থেকে তিনটি নাম ঘোরাফেরা করছিল। সেই তালিকায় মোজ়তাবার নাম তো ছিলই। এছাড়া, আলি লারিজানিও ইরানের ক্ষমতায় আসতে পারেন বলে খবর ছড়িয়েছিল। তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। জানা গিয়েছে, ৬৭ বছরের আলির উপরই ভরসা ছিল খামেনেইয়ের। এছাড়া, আরও একটা জল্পনা চলছিল যে, ইরানে রাজতন্ত্র ফিরতে পারে। খামেনেই খতম হতেই ক্ষমতায় ফিরবেন বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রেজা পেহলভি। ১৯৭৯ সাল থেকে আমেরিকাতেই রয়েছেন। ইরান থেকে তাঁকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। ওই সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর বাবা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই ইরান থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল যুবরাজ পহেলভিকে।
সূত্রের খবর, ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় নাম রয়েছে রেজ়া পেহলভির। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই তাঁকে আবার ইরানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এমনটাই শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইরানের সর্বোচ্চ স্থান তাঁকেই দেওয়ার পরিকল্পনা নাকি করে ফেলেছিলেন ট্রাম্প।



