0%

Supreme Court on SIR: নির্বাচন কমিশনের কি SIR পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে? রায়ে স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার শুনানিImage Credit: TV9 Bangla

নয়া দিল্লি: SIR মামলায় বড় জয় নির্বাচন কমিশনের। ধোপে টিকল না বিরোধীদের আপত্তি। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, দেশ জুড়ে চলবে SIR। এদিনের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ  চারটি বিষয় বিবেচনা করেছে…

প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের কি SIR পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে?

সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে, SIR পরিচালনা দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, কমিশন কি বৈধ উদ্দেশ্য নিয়ে SIR করেছে এবং কমিশনের নেওয়া পদক্ষেপগুলি কি আইন মোতাবেক ছিল?

তৃতীয়ত, SIR কি জন আইন  অর্থাৎ Representation of the People Act ও সংশ্লিষ্ট বিধির পরিপন্থী?

চতুর্থত, সাংবিধানিক দায়িত্ব ও আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কি তথ্য/নথি চাওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত?

এই সব কটি ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে,  কমিশন ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই এসআইআর করেছে। শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট বলে দিয়েছে, কোনও ভাবেই কমিশনের পদক্ষেপকে  আল্ট্রা ভাইরাস অর্থাৎ আইন বহির্ভূত বলা যায় না। উল্লেখ্য, আল্ট্রা ভাইরাস হল একটি ল্যাটিন আইনি পরিভাষা, যার আক্ষরিক অর্থ ‘ক্ষমতার বাইরে’। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে,   নির্বাচন কমিশন তাদের আইনি ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করেনি। আদালতের বক্তব্য, “সাধারণত যে ধরনের পুনর্বিবেচনা করা হয়, SIR তার থেকে আলাদা হতে পারে। কিন্তু তাই বলে একে আইনবহির্ভূত বা ULTRA VIRES বলা যায় না।”

রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “SIR হল নির্ভুল ও সর্বসম্মত ভোটার তালিকা তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” একই সঙ্গে আদালতের মন্তব্য, এই প্রক্রিয়া  ‘সাংবিধানিক চেতনাকেই আরও শক্তিশালী করে।’ বাংলা ও বিহারের ক্ষেত্রে এসআইআর পরিচালনায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট করে দেয়, কমিশনের এই দায়িত্ব রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, SIR-এ নাম বাদ যাওয়া নিয়মের পরিপন্থী নয়। নথির বৈধতা প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, কমিশনের নির্দেশিত ১১টি নথি এবং আমাদের নির্দেশের পর আধার কার্ড অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার পর, এই যুক্তি কখনওই গ্রহণযোগ্য নয় যে নির্বাচন কমিশন একতরফা সিদ্ধান্তে ডকুমেন্টস নিয়েছে। এমনকি এটাও বলা যায় না যে ডকুমেন্টস যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অবাস্তব বা কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই পরিচালিত হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট এটাও স্পষ্ট করেছে, RP Act-এর ধারা ১৬ অনুযায়ী, ভোটার তালিকার পুনর্বিবেচনা করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’-এর আওতাভুক্ত থাকবে।

তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, যদি জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে ভোটারের পরিচয় বা তালিকায় নাম থাকার যোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে। তবে তার অর্থ এই নয় যে তিনি আর ভারতের নাগরিক নন, এটি কেবল তাঁর ভোটাধিকার সম্পর্কিত বিষয়। নাগরিকত্ব নির্ধারণের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এ ধরনের ক্ষেত্রে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিকে অ্যাডজুডিকশনের সুযোগ দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker