0%

Venomous Terror on Mandarmani Beach

মন্দারমণির সৈকতে বিষধর চমক! উপরটা কালো। পেটের অংশ উজ্জ্বল হলুদ। লেজের দিকটা নৌকার বৈঠার মতো চ্যাপটা। ইয়েলো বেলিড সি স্নেক! পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সামুদ্রিক সাপ। যার বিষের কোনও অ্যান্টিভেনাম হয় না বাংলায়। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর ঘুরতে গিয়ে তা-ই মোবাইল ক্যামেরাবন্দি করেছেন হাওড়ার বাসিন্দা শোভন রায়। হাওড়ার বাসিন্দা শোভনবাবু পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরে। গত রবিবার মন্দারমণির বালুতটে হাঁটতে হাঁটতে তিনিই প্রথম দেখতে পান এই সাপটিকে। নিজেও জানতেন না সাপটির পরিচয়। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘নিরীহ সামুদ্রিক প্রাণী..’, ভিডিও শেয়ার করতেই মুহূর্তে ভাইরাল। কমেন্ট বক্সে সকলেই লিখেছেন, ‘নিরীহ কোথায়! এটা তো ইয়েলো বেলিড সি স্নেক। ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ।’ সত্যিটা জানতে পেরে আতঙ্কিত শোভনবাবু। বলছেন, ‘ভাগ্যিস দূর থেকে দেখেছি। কাছে এগোইনি।’

ইয়লো বেলিড সি স্নেক, পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সামুদ্রিক সাপ। ছবি: সংগৃহীত

ইয়েলো বেলিড স্নেক কামড়ের পর ফুসফুসের ডায়াফ্রাম আস্তে আস্তে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।  ডায়াফ্রাম হল বুক ও পেটের মাঝখানে প্রধান পেশি। যা সংকুচিত প্রসারিত হয়ে ফুসফুসে বাতাস ঢোকা বার হওয়ায় সাহায্য করে। ইয়েলো বেলিড স্নেকের নিউরোটক্সিস বিষ স্নায়ু ও পেশির সংযোগের দফারফা করে। এই সাপের কারণেই শরীরে দেখা যায় মায়োগ্লোবিনইউরিয়া! প্রস্রাব দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।

কেন এই সাপকে নিয়ে এত আতঙ্ক? সর্প বিশেষজ্ঞ ডা. বিশাল সাঁতরা জানিয়েছেন, ভারতবর্ষের কোনও কোম্পানি এই সাপের বিষের অ্যান্টিভেনাম তৈরি করে না। দেশের বাইরে থাইল্যান্ডের রেডক্রস সোসাইটি এর অ্যান্টিভেনাম তৈরি করে। ডা. বিশাল সাঁতরা জানিয়েছেন, এই সাপের বিষ আদতে একটা ডেডলি কম্বিনেশন। কীরকম? মায়োটক্সিক এবং নিউরোটক্সিক দুইই ক্ষমতা আছে তার। ইয়েলো বেলিড স্নেক কামড়ের পর ফুসফুসের ডায়াফ্রাম আস্তে আস্তে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

ডায়াফ্রাম হল বুক ও পেটের মাঝখানে প্রধান পেশি। যা সংকুচিত প্রসারিত হয়ে ফুসফুসে বাতাস ঢোকা বার হওয়ায় সাহায্য করে। ইয়েলো বেলিড স্নেকের নিউরোটক্সিস বিষ স্নায়ু ও পেশির সংযোগের দফারফা করে। এই সাপের কারণেই শরীরে দেখা যায় মায়োগ্লোবিনইউরিয়া! প্রস্রাব দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। কারণ? ডা. বিশাল সাঁতরার কথায়, “সাপের বিষের কারণে পেশির ভিতরের প্রোটিন রক্তে মিশতে শুরু করে। প্রস্রাবের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে রোগীর। তবে পুরোটাই নির্ভর করে কতটা বিষ সে ঢালতে পেরেছে।”

শেষ এই সাপ দেখা গিয়েছিল বছর তিনেক আগে দিঘায়। এবার নতুন করে মন্দারমণির সৈকতে দেখা যেতেই আতঙ্ক পর্যটকদের মধ্যে। দিঘা-মন্দারমণি-তাজপুর বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় ডেস্টিনেশন। সপ্তাহান্তে ছুটি কাটাতে যান লক্ষ লক্ষ পর্যটক। আগামী দিনে সমুদ্রে সৈকতে স্নানে নামবেন? মন্দারমণি সৈকতে স্বচক্ষে বিষধর দেখা শোভনবাবুর কথায়, আমি জানতাম না এটা সাপ। দূর থেকে দেখে মনে হয়েছিল কোনও সামুদ্রিক প্রাণী। এখন সমাজমাধ্যমে শেয়ার করার পর জানতে পারলাম এটা পৃথিবীর অন্যতম বিষাক্ত সাপ। সত্যি বলছি এরপর মন্দারমণির সমুদ্রে নামার আগে বুক ঢিপ ঢিপ করবেই। ডা. বিশাল সাঁতরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের বলব দিঘা-মন্দারমণিতে ঘুরতে যান। কিন্তু সতর্ক থাকুন। হলদেটে পেটের সাপ দেখলে সাবধান হয়ে যান। কাছে গিয়ে সেলফি বা ভিডিও নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। নিরাপদ দূরত্ব রাখুন।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker