অভিষেকের ‘গদ্দার’ মন্তব্যে ফুল অ্যাকশনে হুমায়ুন! পাল্টা যা বলে ফেললেন…কেঁপে উঠল রাজ্য রাজনীতি

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে জেলার রাজনীতি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বললেন?
শনিবার বহরমপুরে রোডশো ও জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেলডাঙার অশান্তির পিছনে বিজেপি এবং এক ‘গদ্দারের’ হাত থাকতে পারে। তিনি জানান, এই ঘটনার পর অনেকেই তাঁকে কর্মসূচি বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা মানেননি। অভিষেকের বক্তব্য, সভা না করলে এই শক্তিগুলিই আরও সাহস পেত। তিনি আরও বলেন, ওই ‘গদ্দার’-কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার আসল চেহারা প্রকাশ্যে আনা হবে। নাম করে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) আক্রমণ করে তিনি বলেন, মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করে যারা রাজনীতি করে, তাদের বিদায় নেওয়াই উচিত।
হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) পাল্টা প্রতিক্রিয়া
অভিষেকের মন্তব্যের পরেই কড়া জবাব দেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তিনি বলেন, তাঁকে ‘গদ্দার’ বলে বেলডাঙার অশান্তির দায় চাপানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, তিনি কারও দয়ায় রাজনীতি করেন না, জনগণের ভোটেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। হুমায়ুনের বক্তব্য, তিনি সব সময় মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানো যদি ‘গদ্দারি’ হয়, তবে সেই ‘গদ্দারি’ তিনি বারবার করবেন বলেও মন্তব্য করেন।
প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন
বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে ফেলেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকতেই একজন জনপ্রতিনিধির উপর দায় চাপানো হচ্ছে। অশান্তির সময় পুলিশ ও প্রশাসন কেন সক্রিয় হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে তিনি জানান, তিনি শান্তির পক্ষে, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বেলডাঙার অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা টেলিভিশন সাংবাদিকের উপর হামলাকে তিনি গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারকে রাজ্য সরকার ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেবে এবং তাঁর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ সাশ্রয় মোটা টাকা! স্বামী-স্ত্রীর জন্য বাজেটেই চালু হচ্ছে ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’? বড় আপডেট
সভা থেকে অভিষেক বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের সব ক’টি আসনেই তৃণমূল জয়ী হবে। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) জানান, সাধারণ মানুষের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি এবং মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলডাঙা ও মুর্শিদাবাদের রাজনীতি এখন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।



