অরুণাচলের জমি অবৈধভাবে দখল করছে চিন? তদন্ত শুরু করছে সরকার, কী জানাল ভারতীয় সেনা?

সবদিক নিউজ:অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh) নিয়ে ভারত (India) ও চিনের (China) মধ্যে অব্যাহত টানাপোড়েন। ফের একবার অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিনের বিরুদ্ধে ফের অরুণাচলে দখলদারির অভিযোগ তুলেছে সেখানকার বাসিন্দারা। অভি আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক বছরে চিন ধীরে ধীরে ভারতের সীমান্তবর্তী জমিতে দখলদারি বাড়িয়েছে, এমনকি সেই এলাকায় স্থায়ী উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আর স্থানীয়দের এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অরুণাচল প্রদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে অন্যদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুপ্রবেশ এবং সেনা শিবির তৈরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই।
চিনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অরুণাচলে (Arunachal Pradesh) জমি দখলের অভিযোগ:
মামা নাটুং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যানান, রাজ্য সরকার জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এই নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছে এবং তারই অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ভারতের ভূখণ্ডে কোনও ধরনের অবৈধ দখল হয়েছে, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হবে এবং সরকার প্রয়োজন মতো ব্যবস্থাও নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যাতে সমস্ত তথ্য নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা যায়। সরকারের এই অবস্থান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, স্থানীয়দের করা অভিযোগকে একেবারে উড়িয়ে না দিয়ে বরং আগে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করতে চাইছে প্রশাসন (Arunachal Pradesh)।
তিস্তা প্রকল্পে কেন বাংলাদেশকে সাহায্য করছে চিন? নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বেজিং
এখানে রাজ্য সরকার তদন্তের পথে হাঁটলেও, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেনার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিও সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে চিনের পিএলএ অরুণাচল প্রদেশে অনুপ্রবেশ করে সেনা শিবির স্থাপন করেছে। কিন্তু এই ধরনের সমস্ত প্রতিবেদনই মিথ্যা, যার কোনও ভিত্তি নেই এবং সম্পূর্ণ বিভ্রান্তকর। সেনাবাহিনী জানায়, সীমান্ত এলাকায় সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সেনাবাহিনীর বক্তব্যের মধ্যে একটি বিস্তর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, যার জেরে তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র একটি স্মারকলিপিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে অরুণাচলের আদিবাসী সংগঠন। সংগঠনটি সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানায় যে গত ছয় বছরে চিনের সেনাবাহিনী তাদের পৈতৃক জমি ও বিস্তীর্ণ চারণভূমি দখল নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ধীরে ধীরে সীমান্ত এলাকায় চিনের উপস্থিতি বাড়ছিল, তবে ২০২০ সালের পর থেকে সেই কার্যকলাপ অনেক বেশি তীব্র হয়েছে। সংগঠনটি আপার সুবনসিরির তাকসিং অঞ্চলের পাঁচটি নির্দিষ্ট এলাকার নামও উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, আসাফিলার ওয়িং, পোট্রাং হ্রদ, মারপান বা মারনাফে অঞ্চল, পানিয়ারের চুজারতা এলাকা এবং টিনডিনটাং বা টিজি এলাকায় আগে স্থানীয়দের অবাধ যাতায়াত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ওই সব জায়গায় চিনা সেনার উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ধর্মতলায় তৃণমূলের মেগা সভার দিন শেষ? দুই শিবিরকেই ২১ জুলাই নিয়ে ‘না’ পুলিশের
ভারত-চিন সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল এবং দুই দেশের মধ্যে সীমারেখা নিয়ে মতবিরোধ বহু পুরনো। বিশেষ করে ২০২০ সালের লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) নতুন এই অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং ভারতীয় সেনা তা অস্বীকার করেছে, তবুও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্টই ঠিক করবে অভিযোগের কতটা সত্যতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে কী ধরনের প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ—দুই দিকেই নজর রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে প্রশাসন।




