আগস্টেই শুরু হবে জনগণনা! কী কী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ? জেনে নিন

বাংলা হান্ট ডেস্ক : প্রায় দেড় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফের শুরু হচ্ছে জনগণনা (Census)। এই সেনসাসকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে গণনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে। কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা নথিভুক্ত করা হবে এবং সাধারণ মানুষকে কীভাবে সহযোগিতা করতে হবে, সেই সমস্ত বিষয়েই তাঁদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
জনগণনায় (Census) কী প্রশ্ন করা হবে ?
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, জনগণনা হবে দুটি ধাপে। আগামী অগাস্ট মাস থেকেই জনগণনার প্রাথমিক পর্ব শুরু হবে। ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম পর্যায় চলবে। এই সময় ‘সেলফ এনিউমারেশন’ বা স্বগণনার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে নিজেদের তথ্য নিজেরাই জমা দিতে হবে। কেউ প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়লে বা প্রক্রিয়া বুঝতে অসুবিধা হলে গণনাকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে গণনাকর্মীদের নিজেদের এলাকায় মোট কতটি বাড়ি এবং কতটি পরিবার রয়েছে, সেই প্রাথমিক তথ্যও তাঁদের সংগ্রহ করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে, ১৬ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গণনাকর্মীরা প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে অনলাইনে জমা পড়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য সংশোধনের ব্যবস্থাও করা হবে। এই প্রাথমিক কাজ শেষ হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলবে মূল জনগণনা। প্রত্যেক গণনাকর্মীর দায়িত্বে গড়ে ১৫০ থেকে ১৮০টি পরিবার থাকবে। একইসঙ্গে স্যাটেলাইট চিত্রের সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার ম্যাপিংয়ের কাজও সম্পন্ন করা হবে।
স্বগণনার সময় প্রত্যেক পরিবারকে মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়ার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হবে। এই প্রশ্নগুলির মাধ্যমে বাড়ির নম্বর ও সেন্সাস গৃহ নম্বর, বাড়ির মেঝে, দেওয়াল ও ছাদে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী, বাড়ির ব্যবহার ও বর্তমান অবস্থা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, পরিবারের প্রধানের নাম, লিঙ্গ এবং তিনি তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত কি না, বাড়ির মালিকানার ধরন, বসবাসযোগ্য ঘরের সংখ্যা, বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা, পানীয় জলের উৎস, বিদ্যুতের প্রধান উৎস এধরনের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে জনগণনার ফর্মে।
এছাড়াও, শৌচালয়ের ধরন, জলনিকাশী ব্যবস্থা, স্নানের সুবিধা, রান্নাঘর ও এলপিজি সংযোগ, রান্নার জ্বালানির ধরন, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সুবিধা, মোবাইল বা স্মার্টফোনের ব্যবহার, সাইকেল, মোটরসাইকেল, স্কুটার কিংবা চারচাকার গাড়ির উপস্থিতি, পরিবারের প্রধান খাদ্যশস্য এবং মোবাইল নম্বর-সহ বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হবে। পুরুষ, মহিলা ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যসংখ্যা, বয়স, লিঙ্গ-পরিচয়-সহ একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া বাড়ির নির্মাণের ধরনও নির্দিষ্ট শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী নথিভুক্ত হবে।
আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশনে কী কী জানতে চাওয়া হচ্ছে? কোন কোন নথি দেখাতে হচ্ছে জানুন
উল্লেখ্য, ভারতে শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। পরবর্তী জনগণনা ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ অতিমারীর জেরে তা আর হয়নি। ফলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফের দেশের জনসংখ্যা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগে জনগণনা করা হবে। ভবিষ্যতে সরকারি পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও এই তথ্য হবে অন্যতম প্রধান ভিত্তি।



