আমেরিকার চিন্তা বাড়িয়ে এবার এই মহাসাগরে নজর চিনের! কী পরিকল্পনা লালফৌজের?

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগে বহুদিন ধরেই ভারতের লাদাখ, ডোকলাম কিংবা অরুণাচল প্রদেশে ‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশল ব্যবহার করে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে চিন (China)। সীমান্তে বিভিন্ন ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে বদলে দেওয়াই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। তবে ভারতে সেই কৌশল ব্যবহারের চেষ্টা একাধিকবার আগেভাগেই রুখে দিয়েছে। আর এবার সেই একই নীতি স্থলসীমা ছাড়িয়ে সমুদ্রপথেও প্রয়োগ করতে চলেছে বেজিং এমনই দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে। বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের সাম্প্রতিক নৌ-তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আমেরিকা, তাইওয়ান এবং তার মিত্র দেশগুলির মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্যে সংঘাত না তৈরি করেই ধাপে ধাপে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে চিন।
আমেরিকার চিন্তা বাড়িয়ে এবার এই মহাসাগরে প্রভাব বিস্তারে নতুন পরিকল্পনা করছে চিন (China):
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি চিনের (China) একাধিক সরকারি জাহাজ মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরের জলসীমায় নিয়মিত টহল দিতে দেখা যায়। কেবল সেটাই নয় জানা যাচ্ছে, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চল এবং বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকাতে গবেষণা ও মানচিত্র তৈরির কাজও শুরু করেছে চিন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ডই ‘সালামি স্লাইসিং’-এর নতুন রূপ। এতে একবারে বড় কোনও সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে ছোট ছোট কিন্তু ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমুদ্রে নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক আইনের সীমা অতিক্রম না করেও বাস্তবে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দালাল চক্রে ইতি, ২৪ ঘন্টাতেই হবে জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রি, ‘তৎকাল রেজিস্ট্রেশন’ চালুর পথে রাজ্য
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় চিনের এখন বিশেষ নজর পড়েছে । কারণ এই অঞ্চলটি তাইওয়ানকে সরাসরি বৃহত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং কোনও সামরিক বা কূটনৈতিক সংকটের সময় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে চলতি মাসের শুরুতেই চিনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার ৩টি জাহাজ তাইওয়ান ও ফিলিপিন্সের মধ্যবর্তী বাশি প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করেছে। এৎ পাশাপাশি ওই এলাকায় সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরির কাজও শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ধরনের তথ্য ভবিষ্যতে চিনা নৌবাহিনীকে সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক সম্পদ আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে। তাছাড়াও সমুদ্রতলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং একাধিক নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
বেজিং দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে দাবি করে এসেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বহুবার প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথাও বলেছেন। তার জেরে তাইওয়ানও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমাগত আধুনিক করছে এবং সমুদ্রপথে চিনের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর কড়া নজর রাখছে। আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলের মতে, যদি চিন তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তুলতে পারে, তবে সংকটের সময় তাইওয়ানের বিকল্প সমুদ্রপথ অনেকটাই সীমিত হয়ে যেতে পারে। ফলে এই অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা তৎপরতা শুধু তাইওয়ানের নয়, গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও নতুন করে ভাবাচ্ছে।

আরও পড়ুন: আর শুধু নদী নয়, এবার পুকুরেও মিলবে ইলিশ! বড় সাফল্য মিলল বাংলার গবেষণায়
যদিও অবশ্য চিনের (China) এই কৌশল নতুন নয়। ২০১৭ সালে ডোকলাম নিয়ে ভারত-ভূটান-চিন সীমান্তে উত্তেজনার সময়ও বেজিং একইভাবে ধাপে ধাপে পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। পরে উপগ্রহ চিত্রে ডোকলামের কাছাকাছি নতুন গ্রাম তৈরির তথ্যও সামনে আসে। তারপর ২০২১ সালে অরুণাচল প্রদেশের কাছেও পূর্বের মতো চিনের নির্মাণকাজ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভারত বরাবরই এই ধরনের পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে। এখন সমুদ্রেও একই ধরনের কৌশল দেখা যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে এবং চিনের এই ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার নীতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।




