জেলের ভিতরের জীবন কেমন? এবার সাধারণ মানুষও পাবেন সেই স্বাদ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : জেলের (Jail) চার দেওয়ালের ভেতরের জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বন্দিরা কী খান, কীভাবে দিন কাটান কিংবা কারাবাসের মানসিক চাপ কতটা— সেই অভিজ্ঞতা এবার অনুভব করতে পারবেন সাধারণ নাগরিকরা। এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে হায়দ্রাবাদের কারা দফতর। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এবার একদিনের জন্য জেলের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে আগ্রহীদের।
সাধারণ মানুষের জেলে (Jail) থাকার সুযোগ
হায়দ্রাবাদের চঞ্চলগুড়া সেন্ট্রাল জেল সম্প্রতি চালু করেছে ‘ফিল দ্য জেল’ নামে একটি অভিনব কর্মসূচি। এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ বন্দিশালার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে থাকতে হলে জেলের নিয়মকানুন মেনেই চলতে হবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বন্দিদের মতো জীবনযাপন করতে হবে অংশগ্রহণকারীদের। খাবার মিলবে ঠিক কয়েদিদের মতোই, এমনকি পরতে হবে কারাবন্দিদের নির্দিষ্ট পোশাকও।
কারা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কেউ যদি পুরো একদিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা জেলের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তবে তাঁকে খরচ করতে হবে ২ হাজার টাকা। ১২ ঘণ্টার জন্য এই অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে দিতে হবে এক হাজার টাকা। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র কৌতূহল মেটানো নয়। জেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্বাধীন জীবনের মূল্য এবং অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যাতে ভুল পথে না হাঁটে এবং দায়িত্বশীল জীবন বেছে নেয়, সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় প্রশাসন। এদিকে, হায়দ্রাবাদে সম্প্রতি চালু হয়েছে একটি বিশেষ জেল মিউজিয়ামও। সেখানে নিজাম আমলের কারাব্যবস্থা থেকে আধুনিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থার বিবর্তনের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেখানে দেখতে পাবেন পুরোনো শিকল, অতীতের কারাকক্ষের আদলে তৈরি বন্দিশালা এবং বন্দিজীবনের নানা স্মৃতি ও বন্দীদের ইতিহাস।

আরও পড়ুন : বিধানসভায় প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কক্ষে তৃণমূলের বিধায়কদের ভিড়, সৌজন্য না নতুন সমীকরণ?
এর আগেও তেলঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডি হেরিটেজ প্রিজন মিউজিয়াম-এ ‘একদিনের বন্দিজীবন’ কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই সাফল্যের পথ ধরেই এবার চঞ্চলগুড়া জেলেও শুরু হল এই নতুন উদ্যোগ। কারা আধিকারিকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণরা আইন, শাস্তি ও সংশোধনের বাস্তব দিক সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন। একইসঙ্গে সমাজে সঠিক পথে চলার প্রয়োজনীয় বার্তাও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।



