বিধানসভার লাঞ্চে মাছ-ভাত! শপথ নিয়েই পাত পেড়ে খেলেন বিধায়করা

সবদিক নিউজ: ভোটযুদ্ধের ময়দানে তৎকালীন শাসকদল বারবার সরব হয়েছিল, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাংলায় মাছ-মাংস নিষিদ্ধ হবে!’ প্রচারমঞ্চে মাছ হাতে তৃণমূল প্রার্থীদের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর বাস্তব চিত্রটা একদম উল্টো। বাঙালির পাতে মাছের জোগান নিশ্চিত করতে এবং সেই আবেগকে সম্মান জানাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই যেন এখন প্রধান উদ্যোগী।
বিধানসভায় মাছের ঘ্রাণ
বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ১৫২ জন বিধায়ক শপথ গ্রহণ করেন। শপথগ্রহণ তালিকায় ছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর এবং কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কও। শপথ পর্ব মিটতেই প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় মাইক হাতে ঘোষণা করেন, “আজ সব সদস্যের জন্য দুপুরের খাবারে মাছ-ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।” এই ঘোষণা শোনা মাত্রই বিধানসভার অন্দরে খুশির মেজাজ তৈরি হয়। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকেও চওড়া হাসিতে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
নবান্ন থেকে বিধানসভা, সর্বত্রই রসনা তৃপ্তি
বিজেপি যে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে না, তা শুরু থেকেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত সোমবার নবান্নে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে প্রথম বৈঠকের পর সন্ধ্যায় জলখাবারে রাখা হয়েছিল মচমচে ‘ফিশফ্রাই’। আর আজ খোদ বিধানসভার লাঞ্চে ভাত আর মাছের ঝোল দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো শাসক ও বিরোধী, উভয় শিবিরের বিধায়কদেরই।
গুজব উড়িয়ে ‘মাস্টারস্ট্রোক’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল যে ‘মাছ বন্ধের’ জুজু দেখিয়েছিল, বিজেপি তা কার্যত রসনা দিয়েই উড়িয়ে দিচ্ছে। বাঙালির মাছ-ভাতের আবেগ ছুঁয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বার্তা দিচ্ছে যে, তাঁরা এই সংস্কৃতির পরিপন্থী নয়। বরং বিধানসভার অলিন্দে ইলিশ-রুইয়ের সুগন্ধ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, বঙ্গে গেরুয়া জমানাতেও মাছ-ভাত থাকবে রাজার হালে।
এদিন নিয়ামত শেখ থেকে হুমায়ুন কবীর, দলের উর্ধ্বে উঠে সকলেই পাত পেড়ে দুপুরের ভোজ সারেন। বিধানসভার এই মাছ-ভাত রাজনীতি কার্যত বিরোধীদের প্রচারের পালে জল ঢেলে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



