নিশিকান্ত দুবেকে নিয়ে ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলোয় তৃণমূলের বিদ্রোহীদের হাইভোল্টেজ বৈঠক

সবদিক নিউজ: রাজধানী দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে এখন টলমল করছে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় সাম্রাজ্য। সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দেওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, রবিবার বিকেলে দিল্লির ৯ নম্বর মতিলাল নেহরু মার্গের হাই-প্রোফাইল বাংলোয় ফের এক দফা চরম গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি (BJP) হেভিওয়েট ভূপেন্দ্র যাদবের এই বাংলোটিই এখন হয়ে উঠেছে ঘাসফুল শিবিরের ‘বিদ্রোহী’দের প্রধান কন্ট্রোল রুম। তবে রবিবারের এই বৈঠকে শুধু ভূপেন্দ্র যাদব নন, শাসকজোট এনডিএ (NDA)-এর চালিকাশক্তি হিসেবে হাজির রয়েছেন বিজেপির অন্যতম চাণক্য তথা সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। এই মেগা বৈঠক প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, লোকসভায় তৃণমূলকে সংখ্যালঘু করে আলাদা ব্লক তৈরি করার ব্লু-প্রিন্ট ১০০ শতাংশ তৈরি।
এক ফ্রেমে দেব-সায়নী-কাকলিরা, রয়েছেন নিশিকান্তও
সূত্রের খবর, এদিনের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বিদ্রোহী শিবিরের প্রথম সারির সমস্ত মুখই উপস্থিত রয়েছেন। ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, মালা রায় এবং অরূপ চক্রবর্তীদের মতো হেভিওয়েট সাংসদদের এই বাংলোর অন্দরে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সূত্র মারফত দাবি করা হচ্ছে যে, ঘাটালের সুপারস্টার সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-ও এই মেগা বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন।
শনিবারই এই বাংলোয় এসে বিজেপির সঙ্গে সই-সাবুদ পর্ব চুকিয়ে গিয়েছেন উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ নিশিকান্ত দুবের মতো দিল্লির বড় মাথার উপস্থিতিতে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার আইনি চিঠির বয়ান ও রণকৌশল চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলেই খবর। এই বৈঠকের পর রাতে ফের নিজেদের মধ্যে একপ্রস্থ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন বিদ্রোহীরা।
২০ থেকে বেড়ে সংখ্যাটা ২২! নতুন দুই ‘উইকেট’ কারা?
রবিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এক বিস্ফোরক দাবি করে জল্পনা হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি হাসিমুখে বলেন, “বৈঠক করতে দিল্লি যাচ্ছি। ২০ জন নয়, এখন ২২ জন সাংসদ রয়েছেন আমাদের সঙ্গে।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার যখন এই বিদ্রোহের কথা প্রথম কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল, তখন সংখ্যাটা ছিল ১৯। শনিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেওয়ায় তা দাঁড়ায় ২০-তে। এবার রবিবারের বিকেলে কাকলির দাবি অনুযায়ী তা ২২ ছুঁয়েছে। অর্থাৎ, লোকসভায় মমতার পক্ষে আর মাত্র ৮ জন সাংসদ অবশিষ্ট রইলেন। গত শুক্রবার যে ১৯ জনের সই করা চিঠি সামনে এসেছিল, তার বাইরে নতুন কোন দুই হেভিওয়েট সাংসদ শেষ মুহূর্তে এই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন, তা নিয়ে এখন দিল্লির রাজনীতির অন্দরে তীব্র কৌতূহল। সোমবার সকালে ওম বিড়লার টেবিলে চিঠি জমা পড়লেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, ছাব্বিশের জুনে দাঁড়িয়ে কার কার সইয়ের জোরে দিল্লির মাটি থেকে মুছে গেল মমতার সাধের তৃণমূল কংগ্রেস।



