0%

পরকীয়ার পথে কাঁটা স্বামী! খুনের পর দেহ চা-বাগানে, ৫ কিমি দূরে মাথা, গ্রেফতার স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক-সহ ৫ জন

AK Bangla Desk: উত্তরবঙ্গের বাগডোগরায় চা বাগানের ভেতর থেকে মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। গত মঙ্গলবার সকালে বাগডোগরার হাঁসখোয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে চা পাতা তোলার সময় একটি মাথা কাটা নিথর দেহ দেখতে পান শ্রমিকরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই নিহতের স্ত্রী ও তার প্রেমিক-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। আর ধৃতদের জেরা করতেই বেরিয়ে এসেছে এক হাড়হিম করা খুনের গল্প। পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ ৭ বছরের অবৈধ সম্পর্কের জেরে নিজের ১০ বছরের বিবাহিত স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করেছেন তাঁর স্ত্রী। আর পরিচয় আড়াল করতেই প্রেমিকের সহযোগিতায় দেহ থেকে মাথা কেটে আলাদা করা হয়েছিল।

তান্ত্রিকের বন্ধুত্ব এবং খুনের ভয়ঙ্কর ব্লু-প্রিন্ট

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম মমিনা বেগম (মৃতের স্ত্রী) ও তার প্রেমিক সুদীপ পাল। এ ছাড়াও এই খুনে সহযোগিতা করার অপরাধে সুদীপের দুই ভাগ্নে নিতাই পাল ও বাপি পাল এবং ভাগ্নের বন্ধু কৌশিক নাথকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মৃত ব্যক্তির নাম ইমাম, যিনি পেশায় একজন তান্ত্রিক ছিলেন এবং বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। তান্ত্রিক সূত্রে বাগডোগরার বাসিন্দা তথা অপর তান্ত্রিক সুদীপ পালের সঙ্গে ইমামের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, ইমামের স্ত্রী মমিনার শ্বশুরবাড়ি শিলিগুড়িতে হওয়ায় সুদীপের সঙ্গে তার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চলা এই পরকীয়ার কাঁটা সরাতেই স্বামীকে খুনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে মমিনা ও সুদীপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেলে কিষাণগঞ্জ থেকে ফোন করে ইমামকে বাগডোগরায় ডেকে পাঠায় সুদীপ। ইমাম শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে সুদীপ ও তার ভাগ্নেরা মিলে নির্জন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে খুন করে। কেউ যাতে মৃতদেহ শনাক্ত করতে না পারে, তার জন্য গলা কেটে মাথাটি ধড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেওয়া হয় এবং ধড়টি ফেলে দেওয়া হয় চা বাগানে।

৫ কিলোমিটার দূরে মিলল কাটা মাথা

ঘটনার তদন্তে নেমে বাগডোগরা থানার পুলিশ খুনের কিনারা করলেও কাটা মাথার সন্ধান পাচ্ছিল না। অবশেষে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করার পর, খুনের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ফাঁসিদেওয়ার মুন্সিবাড়ি এলাকা থেকে মৃতের পচাগলা কাটা মাথাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাথাটি নিহতেরই কিনা তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ডিএনএ (DNA) টেস্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে প্রাথমিক অনুমান এটিই ইমামের মাথা।

গত বৃহস্পতিবার ধৃত ৫ জনকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ। সাতসকালে চা বাগানে এমন নৃশংস কাণ্ডে এখনও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker