0%

পিতৃপক্ষে বাড়ির এই ৫ স্থানে জ্বালান প্রদীপ, পূর্বপুরুষের আশীর্বাদে ফুলেফেঁপে উঠবে ধনসম্পদ

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথি থেকে শুরু হয় পিতৃপক্ষ। আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতে তা শেষ হয়। তারপরই পড়ে দেবীপক্ষ। এই সময়ের মধ্যে পূর্বপুরুষেরা উত্তরপুরুষদের হাত থেকে জলগ্রহণ করেন। তাই এই সময়ে পূর্বপুরুষরা যাতে অসন্তুষ্ট না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। নইলে আপনার জীবনে নেমে আসতে পারে ঘোর সংকট। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই সময়ে বাড়ির পাঁচটি জায়গায় প্রদীপ জ্বালানো প্রসন্ন হন পিতৃপুরুষরা।

  • এই কয়েকটি দিন পূর্বপুরুষের বাড়ির সামনে প্রদীপ জ্বালাতে হবে।
  • পিতৃপক্ষ চলাকালীন প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ির সদর দরজার সামনে প্রদীপ জ্বালান।
  • রোজ সন্ধ্যায় বাড়ির দক্ষিণ দিকে প্রদীপ জ্বালাতে পারেন।
  • দক্ষিণ দিকের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণেও প্রদীপ জ্বালাতে পারেন।
  • বাড়িতে অশ্বত্থ গাছ থাকলে, তার আশেপাশে প্রদীপ জ্বালানো বাধ্যতামূলক। তাতে পূর্বপুরুষরা খুশি হন।

পিতৃপক্ষের পৌরাণিক গাম্ভীর্য লুকিয়ে রয়েছে মহাভারতের এক হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যানে। মহাবীর কর্ণ মৃত্যুর পর স্বর্গে গমন করেন। সেখানে তাঁকে খাদ্যের বদলে প্রচুর সোনা ও রত্ন উপহার দেওয়া হয়। বিস্ময়ে কর্ণ দেবরাজ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ইন্দ্র জানান, জীবনভর কর্ণ কেবল সোনা ও ঐশ্বর্যই দান করে গিয়েছেন। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে কখনও অন্ন ও জল তর্পণ করেননি। কর্ণ বিনীতভাবে জানান, তিনি নিজের জন্মপরিচয় জানতেন না। তাই বাধ্য হয়েই তিনি পিতৃপুরুষের তর্পণ করতে পারেননি। কর্ণের এই আকুলতা অনুধাবন করে দেবরাজ তাঁকে ১৫ দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। সেই ১৫ দিন ধরে কর্ণ ভক্তিভরে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে অন্ন, বস্ত্র ও তিল-জল দান করেন। মর্ত্যলোকে কর্ণের সেই ১৫ দিনের পুণ্য তর্পণই শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ নামে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার পালিত হবে সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া। এটিই পিতৃপক্ষের অন্তিম লগ্ন। যাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রয়াণের নির্দিষ্ট তিথি বা সময় জানা নেই, শাস্ত্রমতে তাঁরা এই সর্বপিতৃ অমাবস্যাতেই তর্পণ ও শ্রাদ্ধকর্ম সম্পাদন করতে পারেন। এতেও সমপরিমাণ পুণ্য মেলে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker