পূর্ব মেদিনীপুর নিউজ: সুস্থ শৈশব ফিরিয়ে আনতে শিশুদের ভালো এবং খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে শিক্ষা দিন

সর্বশেষ আপডেট:
কিছু বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভালো এবং খারাপ স্পর্শের পার্থক্য শেখানোর উদ্যোগ দেখা গেলেও সরকারি বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত স্কুলগুলো এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি স্কুল এ কথা জানিয়েছে।
পাঁশকুড়া, সমুদ্র সৈকত: নিরাপদ শৈশব প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। শৈশবে যেকোনো প্রতিকূল ঘটনা শিশুর মানসিক গঠনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। যৌন নির্যাতন শিশুদের শৈশবকে দুর্বিষহ করে তোলে। দেশজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যৌন নির্যাতনের ঘটনা। শিশু-কিশোরদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা সবসময়ই শিরোনামে থাকে। এ বার এই ঘটনা রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে শিখতে শুরু করেছে।
স্পর্শ কখনও কখনও কেবল স্পর্শ, এবং স্পর্শ কখনও কখনও কেবল স্পর্শ নয়। এতে বিকৃতি বা ব্যাধি জড়িত। কিছু বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভালো এবং খারাপ স্পর্শের পার্থক্য শেখানোর উদ্যোগ দেখা গেলেও সরকারি বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত স্কুলগুলো এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি স্কুল এ কথা জানিয়েছে। ভাল স্পর্শ হল স্পর্শ যা আরামদায়ক এবং নিরাপদ বোধ করে, যেমন পিতামাতার স্নেহ, শিক্ষকের স্নেহ বা বন্ধুর আলিঙ্গন। অন্যদিকে, খারাপ স্পর্শ হল স্পর্শ যা অস্বস্তি, ভয় বা লজ্জার অনুভূতি তৈরি করে, যেমন চিমটি দেওয়া, আঘাত করা বা গোপনাঙ্গ স্পর্শ করা। আর তাই শিশুদের শেখানো হয়।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার কনকপুর মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ও অভিভাবকদের নিয়ে গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ নিয়ে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল, যাতে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক, এলাকার আশা কর্মীরা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির শাসমল বলেন, “এই সচেতনতা শিবিরে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং তাদের অভিভাবকরা অংশ নেন। শিশুদের শৈশব নিরাপদ রাখতেই এই ধরনের সচেতনতা শিবিরের উদ্দেশ্য, যাতে তারা কোনোভাবেই নির্যাতিত না হয়। শিশুরা শৈশব থেকেই ভালো-মন্দের পার্থক্য জানতে পারলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন অনেকাংশে কমবে।”
স্কুলের মেয়েদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। অভিভাবকরা যদি এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সচেতনতা না দেখান বা বিষয়টি গোপন রাখার জন্য জোর দেন, তাহলে শিশুর মনে নেতিবাচক মনোভাব বা মানসিক আঘাত লেগেই থাকতে পারে। ভারতসহ সারা বিশ্বে শিশুরা যৌন শোষণের শিকার। তাই শিশুদের জন্য কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ সেটা শেখানোর কাজ শুরু হয়েছে স্কুলগুলোতে। বেসরকারি স্কুলগুলোতে এ বিষয়ে সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। এ বার, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ায় অবস্থিত কনকপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের ভাল এবং খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে।
মেদিনীপুর (মেদিনীপুর), পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ
নভেম্বর 22, 2025 7:28 PM IST



