0%

বিজয়ের শপথে নতুন ইতিহাস! রাহুলের উপস্থিতিতেই গাওয়া হল পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ‘বন্দে মাতরম’

সবদিক নিউজ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা মেনে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া হলো। গত জানুয়ারি মাসে কেন্দ্র এক নির্দেশে জানিয়েছিল যে, এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে এবং একে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-র সমমর্যাদা দিতে হবে। সেই রীতি মেনেই এদিন জাতীয় সংগীতের আগে বন্দে মাতরমের পূর্ণ রূপটি পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ের পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। তবে অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় সংগীতের পর তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীত ‘তামিল থাই ভাল্থু’ বাজানো হয়।

মজার বিষয় হলো, গত শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী)-র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতেও এই গানটি বাজানো হয়নি। ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলমে সৃষ্ট এই গানটিকে ঘিরে গত জানুয়ারি মাস থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করে একে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি অপমান বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, জাতীয় সংগীতের পর বন্দে মাতরম গাওয়া অনুচিত। অন্যদিকে, কংগ্রেসও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ১৯৩৭ সালের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির কথা মাথায় রেখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে গানটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ গ্রহণ করা হয়েছিল।

এই বিতর্ক প্রসঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন যে, যারা আজ নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করছে, তারাই একসময় এই গানটি গায়নি। পাল্টা জবাবে বিজেপি অভিযোগ করেছে যে, ১৯৩৭ সালে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতেই কংগ্রেস গানটিকে সংক্ষিপ্ত করেছিল। তা সত্ত্বেও, বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতেই বন্দে মাতরমের পূর্ণ রূপ গাওয়া রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker