0%

বিদেশে বাতিল, দেশে অবাধ বিক্রি? ভারতের ৪৫০ খাদ্যপণ্য নিষিদ্ধ করল ইউরোপ, উঠছে প্রশ্ন

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় খাদ্যপণ্যের (Indian Food Items) গুণমান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ মে থেকে ২০২৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ভারতের ৪৫০টিরও বেশি খাদ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অভিযোগ, ওইসব পণ্যের অনেকগুলিতেই অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষতিকর কীটনাশক, ভারী ধাতু এবং বিভিন্ন রোগসৃষ্টিকারী জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। ফলে ইউরোপের বাজারে ভারতীয় খাদ্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হলেও দেশের বাজারে একই ধরনের পণ্য বিক্রি হয়ে চলায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

ভারতীয় ৪৫০ খাদ্যপণ্য (Indian Food Items) নিষিদ্ধ করল ইউরোপ

ভারতে খাদ্যপণ্যের (Indian Food Items) মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআই-এর হাতে। এই সংস্থার অনুমোদন ছাড়া কোনও খাদ্যপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যায় না। একইভাবে দেশের অভ্যন্তরে বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তবে ইউরোপীয় ফুড সেফটি অথরিটি এবং ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য বলছে, গত দুই বছরে প্রত্যাখ্যাত ৪৫০টিরও বেশি ভারতীয় খাদ্যপণ্যের মধ্যে অন্তত ৩৬৫টিতে ক্ষতিকর কীটনাশক অথবা ভারী ধাতুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আরও প্রায় ৫০টি পণ্যে পাওয়া গিয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা অন্যান্য রোগসৃষ্টিকারী অনুজীব, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মাসে ৩,০০০ টাকা পেতে হলে ফের আবেদন! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নতুন নির্দেশিকা জানুন

রিপোর্টে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে ক্লোরপাইরিফস নামের একটি কীটনাশক। বিশ্বের বহু দেশে নিষিদ্ধ এই রাসায়নিককে জিনগত ক্ষতি, ক্যানসার এবং স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার জন্য দায়ী করা হয়। অথচ ইউরোপীয় পরীক্ষাগারে প্রায় ১৩৫টি ভারতীয় খাদ্যপণ্যে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০টি পণ্যে পাওয়া গিয়েছে ইথিলিন অক্সাইড, যা রক্ত ও স্তন ক্যানসারসহ একাধিক জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর পাশাপাশি ক্যাডমিয়াম, সিসা এবং পারদের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতিও ধরা পড়েছে কয়েকটি খাদ্যপণ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্র এবং হৃদযন্ত্রের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জননীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। জননীতি বিশ্লেষক নরসিংহ রেড্ডি ডোন্তির বক্তব্য, এই ঘটনাগুলি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার জবাবদিহিতার ঘাটতিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর দাবি, দূষণের উৎস খুঁজে বের করার বদলে প্রায়শই দায় চাপানো হয় কৃষকদের উপর। অথচ যেসব রাসায়নিক পাওয়া যাচ্ছে, তার অনেকগুলিই কৃষকরা সরাসরি ব্যবহার করেন না। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ বা সরবরাহ শৃঙ্খলের কোনও পর্যায়ে এগুলি যুক্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

Europe bans 450 Indian food items due to poor quality.

আরও পড়ুন: চোরের ওপর বাটপারি! পালা বদল হতেই মাছ চুরির নালিশ করলেন তৃণমূল নেতা

এদিকে ‘পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-ইন্ডিয়া’-র প্রতিনিধি ডি দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, ক্লোরপাইরিফসের মতো একাধিক বিষাক্ত কীটনাশক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব অতীতে উঠলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তাঁর মতে, খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ এবং নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ইউরোপীয় দেশগুলির এই পদক্ষেপ শুধু রপ্তানির উপর প্রভাব ফেলবে না, বরং দেশের খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেও নতুন করে পর্যালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। ফলে এখন নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং সাধারণ মানুষের খাদ্য (Indian Food Items) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার উপর।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker