বিশ্বকাপে অঘটনের শুরু! কেপ ভার্দের ‘বুড়ো’ গোলকিপারের হাতে আটকে গেল স্পেন, ব্যর্থ বদলি ইয়ামালও

স্পেন: ০
কেপ ভার্দে: ০
এই বিষয়ে আরও খবর
বিশ্বকাপে অঘটনের শুরু। কেপ ভার্দের মতো এক ‘দুর্বল’ দেশের কাছে আটকে গেল ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বলা ভালো, কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার কাছে থমকে গেলেন পেদ্রি, রদ্রিরা। ম্যাচ শেষ হল গোলশূন্য ভাবে। বিশ্বের ফুটবলভক্তদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভোজিনহা বাহিনীর লড়াই। বদলি হিসেবে নেমে ব্যর্থ হলেন লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপ গড়ালে নিঃসন্দেহে আরও অঘটন ঘটবে। কিন্তু ৬৭ নম্বরে থাকা একটি দেশ স্পেনের মতো মহাশক্তিধর দলকে আটকে দেবে, এর থেকে বড় রূপকথা আর কী হয়!
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের
‘ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ’ – এর পাতায়।
চোখ রাখুন
বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়েছিলেন স্পেনের দুই তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ‘এইচ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ঝুঁকি না নিয়ে দু’জনকেই প্রথম একাদশে রাখেননি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। কিংবা হয়তো কেপ ভার্দেকে অতটা গুরুত্ব দেননি। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রিরা ছিলেন ঠিকই। তবে আক্রমণ সাজালেন গাভি, ফেরান তোরেস ও মিকেল ওয়ারজাবালকে দিয়ে। তৃতীয়জন তবু ফলস নাইনে খেলতে পারেন। কিন্তু তোরেস বা গাভি উইংয়ের প্লেয়ার নন। ফলে যা হওয়ার তাই হল। মাঝমাঠের দখল পুরোপুরি স্পেনের পায়ে। কিন্তু খেই হারাল ফাইনাল থার্ডে। গাভি তাঁর নিজের স্বভাবসিদ্ধ মাঝমাঠে নেমে আসছিলেন। অন্যদিকে তোরেস ঢুকে পড়ছিলেন মাঝে। প্রথমার্ধে ওয়ারজাবালকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

স্পেনের প্রথম ঠিকঠাক অ্যাটাক এল ৩৮ মিনিটে। সাইডব্যাক মার্ক কুকুরেয়া বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন হেডের জন্য। প্রথম হেডটায় বিন্দুমাত্র ভুল করেননি তোরেস। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে বোঝা গেল, স্পেন ঠিক কার বিরুদ্ধে খেলছে। ৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামলেন কেপ কার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। প্রথমে তোরেসের হেড আটকালেন, তারপর ফিরতি বলে থামিয়ে দিলেন ওয়ারজাবালের হেডও। এটা সবে শুরু। ভোজিনহার হাতে বন্দি হল স্প্যানিশ আর্মাডার সমস্ত রক্ষণ। ৪৪ মিনিটে ফের তোরেসের মাটি ঘেঁষা শট আটকে দেন তিনি। সামনে ৭ জনের আঁটসাঁট রক্ষণ, তার সঙ্গে ‘বজ্রমুষ্টি’ ভোজিনহার কাছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বারবার হতাশ হতে হল। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল লামিনের অভাব।
Like fine wine some things get better with age.
Vozinha vs Spain 🇪🇸#capeverde #FIFAWorldCup pic.twitter.com/g8A9RzpwGb
— Worwor Woyome🥷🇬🇭 (@novainvonne) June 15, 2026
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও স্পেন কোচ ইয়ামালকে নামাননি। তবে তোরেসকে সামনের দিকে এগিয়ে দেওয়ায় আক্রমণের ঝাঁজ কিছুটা বাড়ে। কিন্তু ওই যে- ভোজিনহা। কখনও স্পেনের ডিফেন্ডার লাপোর্তের হেড, কখনও বা ওয়ারজাবালের শট, সব আটকে গিয়েছিল তাঁর হাতে। একটা সময় ম্যাচটা পরিণত হয়েছিল স্পেন বনাম ভোজিনহা। অবশেষে ৭০ মিনিটে লামিনেকে নামাতে বাধ্য হলেন স্পেন কোচ লা ফুয়েন্তে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পিছনে তিনজন ডিফেন্ডারকে জুড়ে দিলেন কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা। ৭২ মিনিটে ফের মার্কাস লরেন্তের শট আটকে দেন ভোজিনহা। ম্যাচের একেবারে শেষের দিকেও অবিশ্বাস্য সেভ করেন তিনি।
🚨 VOZINHA IS AN ABSOLUTE WALL! THE CAPE VERDE GOALKEEPER IS SINGLE-HANDEDLY DEFYING THE MIGHTY SPAIN! pic.twitter.com/nh04AukVcf
— Goal Galore ⭐️⭐️⚽️⚽️ (@BNewsMargazin) June 15, 2026
গোটা ম্যাচ জুড়ে আফ্রিকার দেশের গোল লক্ষ্য করে ৮টি শট মেরেছে স্পেন। বদলে মাত্র একটা শট করেছে কেপ ভার্দে। সেখান থেকে গোল করতেও পারত তারা। সেটা হয়নি। তাতে কিছু যায়ে আসে না। সব সময় গোল করা বা ম্যাচ জেতাটাই সব নয়। তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা। গল্প তৈরি হয় সেটা থেকেই। স্পেনের মতো মহা শক্তিধর দেশ আটকে গিয়েছে পাঁচ লক্ষের দেশের কাছে। শুধু ট্যাকটিক দিয়ে তা হয় না। বুকের খাঁচার ভিতরে একটা সিংহের মতো বড় হৃদপিণ্ড থাকতে হয়। কেপ ভার্দে সেটা প্রমাণ করেছে। এখন আর তাদের পরিচয় বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে নয়। বিশ্বকাপের মতো বিরাট মঞ্চে তারা থামিয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ আর্মাডাকে। যুগ যুগ ধরে গল্প চলবে ভোজিনহা ও তাঁর ব্রিগেডের বীরত্বের। আর স্পেনের জন্য একটাই সান্ত্বনা। ২০১০ সালে প্রথম ম্যাচ হেরেও তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
এই বিষয়ে আরও খবর

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের
‘ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ’ – এর পাতায়।
চোখ রাখুন
শেয়ার
লিংক



