0%

বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এলিভেটেড করিডর! জোকা-পাঁচলা টুইন টানেল নিয়েও জোর তৎপরতা

সবদিক নিউজ: গঙ্গার দু’পারের দুই গুরুত্বপূর্ণ জেলা হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, আধুনিক এবং বাধাহীন করে তুলতে বড়সড় পরিকল্পনা হাতে নিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। বহুদিনের যানজট সমস্যার সমাধান করতে এবার বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর তৈরি হতে চলেছে ছয় লেনের বিশাল এলিভেটেড করিডর। দক্ষিণেশ্বর থেকে বিমানবন্দরের ২ নম্বর গেট পর্যন্ত বিস্তৃত এই ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে। আর সেই চাপ সামলাতেই নেওয়া হয়েছে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। কলকাতা বিমানবন্দর, যশোর রোড, নিবেদিতা সেতু এবং জাতীয় সড়কের মধ্যে আরও দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে শুধু শহর নয়, শহরতলি এবং জেলার গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ থাকায় যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে কয়েকগুণ।

সমস্যা আরও জটিল হয়েছে একাধিক সংযোগ রাস্তা এবং ট্রাফিক সিগনালের কারণে। ফলে দিনের অধিকাংশ সময়ই এই এক্সপ্রেসওয়েতে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। কোথাও কোথাও গাড়ির গতি কার্যত হামাগুড়ি দেয়। প্রশাসনের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই কোনা এক্সপ্রেসওয়ের আদলে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর এলিভেটেড করিডর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নিবেদিতা সেতু থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একইসঙ্গে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং ভিআইপি রোডের মধ্যে যাতায়াতও অনেক সহজ হয়ে যাবে।

গত ২২ মে দিল্লিতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক হয়। সেখানেই বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর এই এলিভেটেড করিডর তৈরির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। জানা গিয়েছে, প্রায় ৭.৩৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকলেও বাকি অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ হাইওয়ে ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে।

বর্তমানে এই রাস্তায় শুধু যানজট নয়, রাস্তার বেহাল দশা এবং বর্ষাকালে জল জমার সমস্যাও ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তা সংস্কার এবং বিকল্প সমাধানের দাবি উঠছিল। তাই নতুন এলিভেটেড করিডরের প্রস্তাবে রাজ্য প্রশাসনের তরফেও ইতিবাচক মনোভাব দেখা গিয়েছে।

এর মধ্যেই বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলে দু’টি উড়ালপুল তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে চলছে। ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়ানো ছাড়াই যাতে গাড়ি চলাচল করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উড়ালপুল তৈরি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই উড়ালপুলগুলিকেও নতুন এলিভেটেড করিডরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, এই প্রকল্পের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। বর্তমান এক্সপ্রেসওয়ের জমির উপরেই প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডর নির্মাণ করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে জমি জট বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সমস্যার সম্ভাবনাও অনেকটাই কম।

শুধু বেলঘরিয়া নয়, একই বৈঠকে জোকা থেকে পাঁচলা পর্যন্ত টুইন টানেল নির্মাণ এবং কলকাতা রিং রোড প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবার বড়সড় রোডম্যাপ তৈরি করছে প্রশাসন।

 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker