বেসরকারি হাসপাতালের ১০% শয্যা এবার সাধারণের জন্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পদক্ষেপ নতুন সরকারের

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে বড় উদ্যোগ নিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্য নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের শয্যার একটি অংশ সরকারি ব্যবস্থার অধীনে আনা হচ্ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী ডা: শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর তিনি জানান, বেসরকারি হাসপাতালের মোট শয্যার দশ শতাংশ এখন থেকে সরকারি ব্যবস্থার অধীনে থাকবে।
এই শয্যাগুলিতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। মন্ত্রী আরও জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এতে চিকিৎসা পরিষেবার চাপ অনেকটাই কমবে এবং জরুরি রোগীরা দ্রুত উন্নত পরিষেবা পাবেন। কলকাতায় এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় পাঁচশ থেকে ছয়শ অতিরিক্ত শয্যা যুক্ত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

বৈঠকের পর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার জানান, সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করবে এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে যাতে কোনও ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম না ঘটে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এই নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে জেলাস্তরের বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গেও আলোচনা শুরু হবে যাতে রাজ্যের সর্বত্র এই পরিষেবা কার্যকরভাবে চালু করা যায়। মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল গরিব মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কোনো রোগীকে আর হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দিতে হবে না। সরকারি হাসপাতালে শয্যা না থাকলেও রোগীর চিকিৎসা দায়িত্ব সরকারই নেবে এবং প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাবে।

নতুন এই উদ্যোগকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসাবে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এর ফলে সাধারণ মানুষের উপর চিকিৎসা খরচের চাপ কমবে এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও মানবিক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।



