0%

ভারতকে হিংসা করে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করবে বাংলাদেশও, কিন্তু সবটাই ‘সিক্রেট’! দেশের ভবিষ্যৎ থাকবে তো?

ভারতের দেখাদেখি বাংলাদেশও চুক্তি করবে।Image Credit: PTI

ঢাকা: ভারতকে ঈর্ষা নাকি ভোটের ফল বদলানোর চেষ্টা? আমেরিকার সঙ্গে এবার চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। তাও আবার জাতীয় নির্বাচনের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে। জানানো হয়েছে, এটি বাণিজ্য চুক্তি (US-Bangladesh Trade Deal)। তবে এই চুক্তিতে কী কী থাকছে, সেই সম্পর্কে বিন্দু মাত্র জানেন না কেউ। আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে এত গোপনীয়তায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। ঠিক তার আগেই, ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে বাংলাদেশ। এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। ভারতের উপরে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তারপরই এবার বাংলাদেশও তৎপর আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করতে কারণ তাদের ভয়, ভারতের সঙ্গে যদি আর প্রতিযোগিতায় পেরে না ওঠে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অর্থনীতি বস্ত্রশিল্প নির্ভর। জ়ারা, এইচ অ্যান্ড এম, নাইকি,প্রাইমার্ক, গ্য়াপের মতো বড় বড় ব্রান্ড থেকে শুরু করে ছোট ব্রান্ডের লোগোয় রেডিমেড পোশাক রফতানি করা হয় গোটা বিশ্বে। আমেরিকায় বাংলাদেশ যা পণ্য রফতানি করে, তার ৯০ শতাংশই পোশাক। ভারতের উপরে শুল্ক বাংলাদেশের থেকেও কমিয়ে দেওয়ায় এই বাজার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় পড়শি দেশ।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের উপরে আমেরিকা ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিল। পরে বাংলাদেশের অনুরোধে জুলাই মাসে তা ৩৫ শতাংশ এবং অগস্ট মাসে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। সূত্রের খবর, বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ তাদের উপরে এই শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার অনুরোধ জানিয়েছে। এবার আমেরিকা সেই প্রস্তাব মানে কি না, তাই দেখার।

চুক্তি নিয়ে বিতর্ক কেন?

ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি যেমন জলের মতো স্বচ্ছ, সেখানেই আবার বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে রয়েছে বড় ধোঁয়াশা। এর কারণ হল গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মহম্মদ ইউনূসের সরকার একটি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সই করে আমেরিকার সঙ্গে। শুল্ক এবং তার দর কষাকষি, পাল্টা আমেরিকা কী শর্ত রাখছে, সবই গোপন রাখা হয়েছে। এমনকী, সে দেশের আইন প্রণেতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতা বা শিল্পপতিরা-কেউই জানেন না।   বাণিজ্য উপদেষ্টা এস কে বশির উদ্দিন আশ্বাস দিলেও চুক্তি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র সূত্র অনুযায়ী খবর, চুক্তিতে বেশ কিছু শর্ত থাকতে পারে। চিন থেকে আমদানি কমাতে বলা হতে পারে বাংলাদেশকে। এর বদলে আমেরিকা থেকে সামরিক ও অন্যান্য পণ্য কেনা, মার্কিন পণ্যের জন্য বাংলাদেশি বাজার উন্মুক্ত রাখা এবং আমেরিকার মান ও সার্টিফিকেশন বিনা প্রশ্ন মেনে নেওয়ার মতো নানা শর্ত থাকতে পারে, যা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও জলঘোলা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে একটি অনির্বাচিত সরকারের এমন চুক্তি স্বাক্ষর ভবিষ্যৎ সরকারের হাত বেঁধে দিতে পারে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভারতের চেয়ে কম সুবিধা পেলে লাখো চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, চুক্তির গোপনীয়তা, সময় নির্বাচন এবং সম্ভাব্য শর্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেও।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker