0%

মৃতদের নথির অপব্যবহার ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ! জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন আইনে বড় সংশোধন আনছে কেন্দ্র

সবদিক নিউজ:পরিবারে নতুন সদস্যের জন্ম হোক কিংবা কোনও প্রিয়জনের মৃত্যু (Birth and Death Registration) এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সরকারি নথিভুক্তি আর ফেলে রাখার সুযোগ থাকছে না। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিয়ম আরও কঠোর করতে সংসদের বাদল অধিবেশনেই নতুন সংশোধনী বিল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত এই আইনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন না করালে শুধু অতিরিক্ত ফি নয়, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতারও মুখে পড়তে হতে পারে সাধারণ মানুষকে। সরকারের দাবি, দেশের জনসংখ্যা সংক্রান্ত সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি, সরকারি পরিষেবা পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথিভুক্তিকে এবার আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন (Birth and Death Registration) আইনে বড় সংশোধন আনছে কেন্দ্র

বাদল অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার লোকসভার সচিবালয়ের প্রকাশিত বুলেটিনে যে পাঁচটি বিলকে আলোচনা ও পাশের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যেই রয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তকরণ (সংশোধনী) বিল। সূত্রের দাবি, এই সংশোধনীতে দেরিতে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মের তুলনায় আরও কঠোর বিধান আনার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে, কোনও জন্ম বা মৃত্যু ঘটনার দুই বছরেরও বেশি সময় পরে তা নথিভুক্ত করতে চাইলে আর শুধু স্থানীয় রেজিস্ট্রারের অনুমতি যথেষ্ট হবে না। সে ক্ষেত্রে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন রেজিস্ট্রেশন না করালে সাধারণ মানুষের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে (Birth and Death Registration)।

 সরকারি স্কুলে তৈরি হবে ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব! পড়ুয়াদের কী কী শেখানো হবে জানুন

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও শিশুর জন্ম বা পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে ২১ দিনের মধ্যে স্থানীয় রেজিস্ট্রারের কাছে তা নথিভুক্ত করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং লেট ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হয়। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, ৩০ দিন থেকে দুই বছরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হলেও জেলা স্তরের রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিতে হবে এবং আগের তুলনায় বেশি ফি ধার্য হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে দুই বছরের বেশি দেরির ক্ষেত্রে। তখন শুধুমাত্র উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকের অনুমোদনের পরই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, প্রমাণ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, সময়মতো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণের অন্যতম ভিত্তি। জনসংখ্যার সঠিক হিসাব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনা অনেকাংশেই নির্ভর করে এই তথ্যের উপর। দীর্ঘদিন রেজিস্ট্রেশন না হলে সরকারি তথ্যভাণ্ডারে অসঙ্গতি তৈরি হয়, যার প্রভাব নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পড়ে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মৃত ব্যক্তিদের আধার, পরিচয়পত্র বা অন্যান্য সরকারি নথির অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এই ধরনের তথ্য জালিয়াতি কখনও কখনও অনুপ্রবেশ, আর্থিক প্রতারণা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

Central govt is introducing major amendments to the Birth and Death Registration Act.

 বিজ্ঞানীদের গণইস্তফায় চাপে ইসরো! গগনযান-সহ গুরুত্বপূর্ণ মিশন বাঁচাতে কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা নয়, বরং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সংস্কৃতিকে আরও দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী করে তোলা। তবে আইন কার্যকর হওয়ার আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত এলাকায় তথ্যের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা অজ্ঞতার কারণে রেজিস্ট্রেশন বিলম্বিত হয়। তাই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পূর্ণ করার বিষয়ে নাগরিকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা, আইনি নথি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে (Birth and Death Registration)।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker