যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে মিতব্যয়ী মোদী, অর্ধেক করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়তেই প্রশাসনিক খরচ কমানোর পথে হাঁটল কেন্দ্র সরকার। সেই আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সূত্রের খবর, তাঁর কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি স্তরে জ্বালানি ব্যবহারে কাটছাঁট করতে সব মন্ত্রককেও প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
কমানো হল প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) কনভয়ের সংখ্যা
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ(SPG)-এর কাছে ইতিমধ্যেই কনভয়ের আকার ছোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো নয়, ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে জ্বালানি বাঁচাতে নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা নেই বলেই সূত্রের দাবি।
অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। তবে এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনও ত্রুটি রাখা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ব্লু বুক’-এর সমস্ত বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই, প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি সফরে তুলনামূলক ছোট কনভয় নজরে এসেছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রককেও জ্বালানি খরচ কমানোর রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মীদের আরও বেশি গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, কারপুলিং বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় সফর এড়ানো এবং ভার্চুয়াল বৈঠকের সংখ্যা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম” ব্যবস্থাও আরও বাড়ানো হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিও নড়েচড়ে বসেছে। উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মন্ত্রী এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সরকারি গাড়ির বহর কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য রাজ্যকেও ব্যয় সংকোচের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের তরফে বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়ার আগে সরকারের নিজেদের আচরণেই সেই বার্তা প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। তাই প্রশাসনিক স্তরে খরচ কমানো এবং জ্বালানি সংরক্ষণে এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : আরামের দিন শেষ! রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল সরকার
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে জ্বালানি অপচয় কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। এমনকি এক বছরের জন্য সোনা কেনা কমানোর কথাও বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই সোনার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। শুধু সরকারি খরচ কমানো নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও সাশ্রয়ের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।



