“যেখানে ইচ্ছে চিকিৎসা করাবেন সোনম!”, কেন্দ্রের আপত্তি উড়িয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

AK Bangla Desk: লাদাখের পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে কেন্দ্র সরকারের সব আপত্তি নস্যাৎ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। স্বস্তি দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সোনম ওয়াংচুক নিজের ইচ্ছামতো যে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন। অনশন ভেঙে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ওয়াংচুককে অবিলম্বে দিল্লির জনপ্রিয় বেসরকারি হাসপাতাল ‘মেদান্তে’ স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এতদিন সফদরজং হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় মেডিক্যাল রিপোর্ট ও ফাইল মেদান্ত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, টানা ২০ দিন অনশনের পর দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে কার্যত জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। এর পর তাঁকে দিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনশনের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা ও হাসপাতালে পুলিশি নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো। আদালতে দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ তোলা হয়, চিকিৎসার অজুহাতে সোনমকে প্রকৃতপক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। তাই তাঁকে সফদারজং থেকে সরিয়ে মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তির আবেদন জানান গীতাঞ্জলী। মামলাটি শুনানির পর দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, “স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া যায় না। মেদান্তেই তাঁর চিকিৎসা চলবে এবং বিশেষ প্যানেল গঠন করে তাঁর দেখভাল করতে হবে।”
যদিও শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেলের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার সোনমকে মেদান্তে স্থানান্তরের তীব্র বিরোধিতা করে। সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল দাবি করেন, চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া তাঁকে ছাড়লে তিনি ফের ধর্নামঞ্চে চলে যেতে পারেন এবং ফের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে উচ্চ আদালত সরকারের সেই যুক্তি উড়িয়ে জানিয়ে দেয়, চিকিৎসার রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আবেদনকারী পক্ষের পছন্দের হাসপাতালেই স্থানান্তর যুক্তিসঙ্গত।
অন্যদিকে, কেন্দ্র ও পুলিশের এই আচরণকে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে সফদরজং চিকিৎসক সমিতিও। চিকিৎসকদের বক্তব্য, একজন রোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে হাসপাতালে আটকে রাখা চিকিৎসার নৈতিকতা ও সাংবিধানিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। হাসপাতাল কোনও পুলিশি হেফাজত বা বন্দিশালা নয়। উপরন্তু ওয়াংচুকের জন্য হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করায় অন্যান্য সাধারণ রোগী ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে সরব হন তাঁরা। সব মিলিয়ে ওয়াংচুক ইস্যুতে আদালতের এই রায়ে বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় প্রশাসন।



