0%

রথের দিনও পড়েনি বাঁশ, হয়নি খুঁটি পুজো! আর দেখা যাবে না আরতির সময় সেই কান্না? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো ঘিরে তীব্র ধোঁয়াশা

সবদিক নিউজ: শ্রীরামপুরের অন্যতম পরিচিত দুর্গাপুজো এবার আদৌ আগের জাঁকজমকে হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একসময় ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পুজো পরবর্তীকালে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো হিসেবেই পরিচিতি পায়। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখনও প্রস্তুতি শুরু না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শ্রীরামপুরের ৫ ও ৬ পল্লি গোষ্ঠী এবং ব্যবসায়ী সমিতির এই পুজো এলাকার পুরনো দুর্গোৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম। আরএমএস ময়দানে প্রতি বছর বড় আয়োজন করা হয়। একসময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে পুজোর খরচ চালানো হত। ২০০৯ সালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর আয়োজনের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। গত প্রায় ১২ বছর ধরে এই পুজোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন কল্যাণ। পুজোর দিনগুলিতে তাঁকে মণ্ডপে উপস্থিত থাকতে এবং মাতৃআরাধনায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। আরতির সময় আবেগে ভেঙে পড়া সাংসদের একাধিক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

অন্যান্য বছর রথযাত্রার দিন কল্যাণের উপস্থিতিতেই খুঁটিপুজো সম্পন্ন হয়। কিন্তু এবার রথ পেরিয়ে গেলেও খুঁটিপুজো হয়নি। পুজোর প্রস্তুতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও সাংসদ প্রকাশ্যে কিছু জানাননি বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। ফলে এবারের আয়োজন নিয়ে সংশয় আরও বেড়েছে। প্রতিবছর আধুনিক থিমের সঙ্গে সাবেকি প্রতিমার মেলবন্ধন দেখতে এই মণ্ডপে বিপুল মানুষের ভিড় হয়। পুজোর পাঁচ দিন কার্যত উৎসবের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয় আরএমএস ময়দান। কিন্তু এখনও কমিটির তরফে কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ শুরু না হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। সমিতির দাবি, কয়েক দিন আগে তাঁরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে তিনি পুজো নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও পরে আর কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সভাপতির কাছেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

এক উদ্যোক্তার বক্তব্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গৌড়মোহন দে-কে পুজোর দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যস্ততার কথা জানানো হচ্ছে। সেই কারণেই প্রস্তুতি শুরু করতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তবে পুজো বন্ধ হবে না বলেই আশ্বাস দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, আগের মতো বিপুল জাঁকজমক হয়তো থাকবে না, কিন্তু বহু বছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে, গৌড়মোহন দে জানিয়েছেন, সাংসদ তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি ব্যবসায়ী সমিতির কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছেন। সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে আয়োজনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যও চান, দীর্ঘদিনের এই পুজো বন্ধ না হয়ে সমস্ত রীতিনীতি মেনেই আয়োজিত হোক। ফলে রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব শেষ পর্যন্ত কোন আকারে অনুষ্ঠিত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শ্রীরামপুরবাসী।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker