১৪ বছর বাবা-মায়ের ঘরেই ঘুমিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র ববিকে কী নামে ডাকতেন জানেন?

বলিউড অভিনেতা ববি দেওল বর্তমানে তাঁর আসন্ন ছবি ‘বন্দর’-এর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নিজের পেশাগত জীবন নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের এমন কিছু স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন, যা অনুরাগীদের আবেগাপ্লুত করেছে। বিশেষ করে বাবা ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নানা অজানা গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সাক্ষাৎকারে ববি জানান, ছোটবেলায় তিনি ছিলেন বেশ গোলগাল চেহারার। সেই কারণেই বাবা ধর্মেন্দ্র স্নেহভরে তাঁকে ‘কদ্দু’ বলে ডাকতেন। অভিনেতার কথায়, “একদিন খামারে একটি বড় গোল সবজি দেখে আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওটা কী। বাবা বলেছিলেন, ‘কদ্দু’। তারপর থেকেই তিনি আমাকে ওই নামেই ডাকতে শুরু করেন। নামটার মধ্যে শুধু ভালোবাসাই ছিল।”
ধোঁয়ায় ভরা ঘরে মৃত্যুভয়! ‘মনে হয়েছিল আর বাঁচব না’, কঠিন সময় কীভাবে পার করলেন মনোজ?
শুধু ডাকনাম নয়, শৈশবের আরও একটি বিশেষ স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন ববি। তিনি জানান, ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বাবা-মায়ের ঘরেই ঘুমাতেন। তাঁর মতে, সেই সময়গুলোই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত। “আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে এত বছর বাবা-মায়ের এত কাছাকাছি থাকতে পেরেছি। বাবা শুটিং শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফিরলেও আমি তাঁর অপেক্ষায় জেগে থাকতাম,” বলেন অভিনেতা।
ববি আরও স্মরণ করেন, অসুস্থ হলে ধর্মেন্দ্র তাঁকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। সেই নিরাপত্তা ও স্নেহের অনুভূতি আজও তাঁর মনে অমলিন। তিনি বলেন, “বাবার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ার যে স্বস্তি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।” পরিবারের প্রতি তাঁর টান কতটা গভীর ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে অভিনেতা জানান, মা প্রায়ই তাঁকে বড় হওয়ার কথা মনে করিয়ে আলাদা ঘরে ঘুমাতে বলতেন। কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গ ছাড়তে তাঁর অনেক সময় লেগেছিল। এমনকি ধর্মেন্দ্রর মতো হালকা আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাসও তাঁর মধ্যে রয়ে গেছে আজ পর্যন্ত।
টলিপাড়ায় ‘D-Cube Model’, SIR পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কাজ? শোষণকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি পাপিয়া অধিকারীর
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ববি। যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ধর্মেন্দ্রর জীবনীচিত্রে কোন অভিনেতা তাঁর চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন, তখন ববি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “বাবার মতো মানুষ আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না। তাঁকে অভিনয়ের মাধ্যমে পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব।”
তিনি আরও জানান, মানুষের প্রতি ধর্মেন্দ্রর উদারতা এবং মানবিক আচরণ তাঁকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। ববির মতে, একজন সফল অভিনেতার পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, আর সেই শিক্ষাই আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।



