‘ধিক্কার দিবস’ পালনের ডাক, ‘আমরা ৮০ হাজার’, ভোটে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আশা কর্মীদের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দাবি পূরণ না-হওয়ায় রাজ্যজুড়ে ফের আন্দোলনে নেমেছিলেন আশা কর্মীরা (Asha Workers Protest)। বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় ‘বেগুনি বিদ্রোহ’ দেখেছে বঙ্গবাসী। এই আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল কলকাতা। জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যভবনে ১৫ জনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। তাই আন্দোলন আরও জোরালো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আশা কর্মীরা।
আজ রাজ্য জুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’ পালন আশা কর্মীদের (Asha Workers Protest)
আজ রাজ্য জুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’ পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন আশা কর্মীরা (Asha Workers Protest)। পাশাপাশি, দাবি পূরণ না-হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেই ঘোষণা করেছেন তাঁরা। যদিও বকেয়া নিয়ে আশ্বাস মিলেছে বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের।
কী ঘটেছে বুধবার?
বুধবার সকালে স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। জেলা থেকে আসা আশা কর্মীদের আন্দোলনে যোগ দিতে বাধা দিতে হাওড়া স্টেশন-সহ একাধিক জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কোথাও কোথাও ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটে। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। ‘অধিকারের দাবিতে’ পথে নেমে পুলিশের বাধায় তাঁরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক ইশমতআরা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা রাস্তায় শুয়ে আন্দোলন চালিয়েছেন (Asha Workers Protest)। তাঁর দাবি, আগের রাত থেকেই তাঁকে ঘরবন্দি করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা কর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের পিছনে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘রাজ্য সরকার যে আগুন জ্বালিয়েছে, তাতে তাদেরই পুড়তে হবে।’
অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আশা কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অনেক কিছু দেওয়ার পরেও সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হচ্ছে, অথচ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোনও আওয়াজ নেই এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করেছেন আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, ন্যায্য দাবি অস্বীকার করতে গিয়েই আন্দোলনের সঙ্গে রাজনীতির তকমা লাগানো হচ্ছে। কেন্দ্র টাকা দেয় না, এই যুক্তির বিরুদ্ধেও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের টাকা কীভাবে আসে বা যায়, তা রাজ্যই জানে। অতীতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা রাজ্য অন্য খাতে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য আশা কর্মীদের দায়িত্ব নেবে এমন আশ্বাস আগেই দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে প্রশাসনিক চমক! ১৪০ নতুন পদ, নবান্নের সিদ্ধান্তে প্রশ্নের ঝড়
এদিন এক বিক্ষুব্ধ আশা কর্মী আন্দোলনে (Asha Workers Protest) নির্বাচনের প্রসঙ্গেও টেনে আনেন। পুলিশ তাঁকে আটক করতে গেলে তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।



