0%

যৌন নিগ্রহের অভিযোগে গ্রেফতার ‘Nonsane’ শমীক, গর্জে উঠলেন অমিত মালব্য

তরুণীকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে নিগ্রহের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বাংলার জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার Nonsane ওরফে শমীক অধিকারী। বৃহস্পতিবার বেহালা থানায় শমীকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন ২২ বছরের এক তরুণী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেতেই সেই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হলেন শমীক (বেহালা থানা কেস নম্বর ৩৩/২৬)। শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিগৃহীতা তরুণী তাঁর অভিযোগে জানিয়েছেন যে শমীক তাঁকে ঘরে তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন। কেবল মানসিক চাপ দেওয়াই নয়, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন লালসার শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই শমীক অধিকারীর অনুরাগী মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে, শমীকের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ নিয়ে এক্স প্রোফাইলে বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য রীতিমতো গর্জে উঠলেন। রেস্তরাঁর মাংস বিতর্কে জড়ানো আরেক কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়কের প্রসঙ্গ তুলে মালব্য লিখলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ আজ এক স্বৈরাচারী শাসনে পরিণত হয়েছে, যেখানে গঠনমূলক সমালোচনার উত্তর তথ্য বা সংস্কার দিয়ে নয়, বরং দেওয়া হয় মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এফআইআর (FIR) এবং সাজানো মামলার মাধ্যমে। তৃণমূল কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলা অ্যাক্টিভিস্ট এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরদের একের পর এক টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁদের চারিত্রিকহনন, ভয় দেখানো এবং পুলিশি হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”

এর পরেই সায়ক চক্রবর্তীর প্রসঙ্গ তোলেন অমিত মালব্য। তিনি লেখেন, ”প্রথমেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল সায়ককে। পুরো তৃণমূল ইকোসিস্টেম তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল—তাঁকে ‘বিদ্বেষী’ তকমা দেওয়া হয়েছে, জনসমক্ষে তাঁকে খাটো করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই এফআইআর আজও প্রত্যাহার করা হয়নি, কোনো সমাধানও হয়নি; বরং ভিন্নমতকে স্তব্ধ করার জন্য তা খাঁড়ার মতো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।এখানে দ্বিমুখী নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট: পরিস্থিতি যদি উল্টো হতো, অর্থাৎ কোনো মুসলিম ক্রেতাকে যদি হিন্দু ওয়েটার শুকরের মাংস (pork) পরিবেশন করতেন, তবে এই রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা হতো। সেক্ষেত্রে ক্রেতার প্রতি সমর্থন জানানো হতো, ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হতো না। এই বাছাই করা ক্ষোভ তৃণমূলের রাজনীতির গভীর ভণ্ডামিকেই প্রকাশ করে।”

অমিত আরও লেখেন, ”এখন নিশানায় ‘ননসেন’ (Nonsane), যাঁকে এখানে ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যিনি তাঁর ভিডিওর মাধ্যমে বাংলার নারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন, হঠাৎ করেই তাঁর বিরুদ্ধে এক মহিলা বন্ধুকে হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই তথাকথিত ঘটনাটি কবে ঘটেছে, কেউ জানে না। তথাকথিত ‘ভিকটিম’ কেন আগে মুখ খোলেননি, তাও অজানা। জনসমক্ষে কোনো তথ্য নেই। তবুও, ঠিক সময়েই একটি অভিযোগ দায়ের করা হলো। তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই কুণাল ঘোষের মতো প্রবীণ তৃণমূল নেতারা জনসমক্ষে তাঁর চরিত্রহনন শুরু করে দিয়েছেন, আর নিচুতলার কর্মীরা তাতে সুর মেলাচ্ছেন। এটি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল। এটিই তৃণমূলের শাসনের মডেল-

বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা

সমালোচকদের ভয় দেখানো

পুলিশকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সম্মানহানি করা

কিন্তু বাংলা সব দেখছে। আর বাংলা চুপ থাকবে না।

মালব্য আরও লিখলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের হাতে নির্যাতিত প্রতিটি ব্যক্তির পাশে বিজেপি দাঁড়াবে। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ভয়ের পরিবেশ দূর করব, ক্ষমতার অপব্যবহার ফাঁস করব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব। এটি বিচার নয়, এটি রাজনৈতিক নিপীড়ন। আর এর অবসান হবেই।”

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker