‘৪ জনকে গ্রেফতার করলেই..’, আরজিকর কাণ্ডে অভয়ার মায়ের নিশানায় কোন চারজন? মুখ খুললেন রত্না দেবনাথ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : আরজি কর (RG Kar Case) মামলাকে ঘিরে আবারও তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্যে। দীর্ঘদিন চাপা থাকার পর ফের নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে করে তিন আইপিএসকে সাসপেন্ড করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্যের পর থেকেই রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এই আবহেই মুখ খুললেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)।
আরজি কর (RG Kar Case) মামলা প্রসঙ্গে তিলোত্তমার মা
সাংবাদিক বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী, আরজি কর ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে। একইসঙ্গে বরখাস্ত করা হয়েছে তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রালের দায়িত্বে থাকা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। এছাড়াও কোপ পড়েছে তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তর উপরও।
এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই ফের সরব হয়েছেন তিলোত্তমার মা। তদন্তের গাফিলতি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “একটা সুরক্ষিত জায়গায় ঘটনাটা ঘটেছিল। সেদিন রাতে ওরা ৫ জন একসঙ্গে ডিনার করেছিল। বাকি ৪ জনকে গ্রেফতার করলেই সব ধরা পড়ে যাবে।”
শুধু পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নয়, তৎকালীন সরকারের দিকেও তদন্তের আঙুল উঠতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”
নতুন সরকারের এই পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন আরজি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও। আন্দোলনের অন্যতম মুখ কিঞ্জল নন্দ বলেন, “নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, নতুন সরকারকে ধন্যবাদ যে তাঁরা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের চাওয়া-পাওয়া কিছু নেই। আমাদের একটাই চাওয়া সুবিচার।”

আরও পড়ুন : সুইমিং পুল, ‘ফ্যান্সি’ গাড়ি কী নেই! ১৫ বছরে সম্পত্তি বেড়ে কয়েক গুণ, তৃণমূল বিধায়ক দিলীপের কাহিনী শুনলে ভিমরি খাবেন
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “বরাবরই বলেছিলাম। এক না একাধিক। এই কথাটা আমরা যবে থেকে আন্দোলন শুরু করেছি, তবে থেকেই আমরা দেখতে পেয়েছি যে এই বিষয়টাকে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেটা এখন পরিষ্কার। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে যে সেগুলো সত্যি।” আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের গতিবিধি বাড়ায় রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, সেই উত্তর খুঁজতেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।



