জ্বালানি সাশ্রয়ে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমালেন স্পিকার-একাধিক মুখ্যমন্ত্রী

সবদিক নিউজ: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও অস্থিরতার জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আঁচ যখন ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে শুরু করেছে, তখন জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ২-এ নামিয়ে নজির গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এবার মোদির দেখানো পথে হাঁটলেন দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী। জ্বালানি সাশ্রয়ে তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনিও নিজেদের কনভয় ছোট করেছেন। জ্বালানি সাশ্রয়ের এই উদ্যোগে শাসক শিবিরে কার্যত নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই উদ্যোগের মধ্যে সবচেয়ে নজর কেড়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। বৃহস্পতিবার তিনি মোটরবাইক চালিয়ে সরাসরি বিধানসভায় পৌঁছন। তাঁর বাইকের পিছনে বসেন বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী আশীষ শেলার। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। অন্যদিকে রাজস্থানে নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়াল বিকানের স্টেশন থেকে ই-রিক্সা (টোটো) করে নিজের বাড়িতে ফেরেন। সাধারণ মানুষের মতো পরিবহণ ব্যবহারের এই ঘটনাকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাও নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। একইসঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মোদির কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর জন্য। নিরাপত্তায় যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেই নির্দেশ কার্যকর করার কাজ শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি আরও জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজের কনভয়ে বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এই কারণে নতুন করে কোনও বৈদ্যুতিন গাড়ি কেনা যাবে না। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সংকট ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশে সংযমী হওয়ার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি করোনাকালের কথা মনে করিয়ে বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও আগামী এক বছর বিদেশযাত্রা বা বিদেশে গিয়ে বিয়ের পরিকল্পনা আপাতত কমানোর আহ্বান জানান মোদি। পাশাপাশি পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার হ্রাস, ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো এবং সোনা কেনাও কমিয়ে আনার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় সরকারের এই ‘মিতব্যয়ী’ অবস্থান শুধু বার্তাই নয়, প্রশাসনিক স্তরে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবেও ধরা হচ্ছে।



