0%

কলকাতায় রোদের চরম তেজ! চলতি সপ্তাহে কত ডিগ্রিতে পৌঁছাবে পারদ? জেনে নিন আবহাওয়ার খবর

সবদিক নিউজ: আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্ষার আগমন ঘটলেও, কেরলে কিন্তু এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দেখা মেলেনি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ, ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশের দিন হলেও, কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন এখনও পর্যন্ত সেখানে বর্ষা ঢোকার কোনও নিশ্চিত বার্তা দিতে পারেনি। তবে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের আরও কিছু অংশে অগ্রসর হওয়ার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে। বর্তমানে একটি ঘূর্ণাবর্ত উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে অবস্থান করছে এবং একটি অক্ষরেখা বিদর্ভ থেকে ছত্তিশগড় ও ওড়িশার ওপর দিয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। 

এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির জেরে উত্তরবঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হতে চলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত শুরু হবে। আগামী চার দিন উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা মোটের ওপর একই রকম থাকলেও, শুক্রবারের পর থেকে পারদ প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। মঙ্গলবার থেকেই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে এবং দার্জিলিং-সহ ওপরের পাঁচটি জেলাতেই ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি শুরু হবে, যার জেরে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে জারি থাকবে সতর্কতা। শুক্রবার কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এবং শনিবার নাগাদ উত্তরবঙ্গের ওপরের পাঁচ জেলাতেই পুরোদমে বর্ষার আমেজ তৈরি হবে।

অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তোড় বাড়লেও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত ভারী ঝড়বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। স্থানীয়ভাবে দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ সামান্য বৃষ্টির সঙ্গে হালকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। তবে স্বস্তির বদলে আগামী তিন দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকার কারণে সাধারণ মানুষের শরীরে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে ‘ফিল লাইক টেম্পারেচার’ বা অনুভূত গরম অনেক বেশি মাত্রায় প্রকাশ পাবে।

কলকাতার ক্ষেত্রেও আগামী দিনগুলিতে মূলত পরিষ্কার আকাশ থাকবে, তবে মাঝে মাঝে আংশিক মেঘলা আকাশের দেখাও মিলতে পারে। বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজ বাড়বে এবং তাপমাত্রা সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হবে। চলতি সপ্তাহে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সোমবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য (০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি। এর আগে রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৫২ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করায় ঘর্মাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker