0%

TMC MLA Priya Paul Relief Material Scams Sankrail

সবদিক নিউজ: রেশন দুর্নীতি থেকে শুরু করে সই জাল, ছাব্বিশের পটপরিবর্তনের বঙ্গে তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি যেন কিছুতেই থামার নাম নিচ্ছে না। এবার গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী চুরির ও তা খোলা বাজারে পাচারের চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠল হাওড়ার সাঁকরাইলের তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালের (Priya Paul) বিরুদ্ধে। শুক্রবার সারেঙ্গায় বিধায়কের নিজস্ব গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, কম্বল ও বস্ত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সশরীরে চোর সন্দেহে গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, যা সামাল দিতে কালঘাম ছোটে সাঁকরাইল থানার পুলিশের।

৩টি ম্যাটাডোর আটক, গ্যারেজ থেকেও উদ্ধার ত্রিপল!

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সাতসকালে সারেঙ্গায় তৃণমূল বিধায়কের গোডাউন থেকে তিনটি বড় ম্যাটাডোরে করে প্রচুর পরিমাণে সরকারি ত্রিপল, কম্বল, দামি শাড়ি, ধুতি এবং অন্যান্য পোশাক অত্যন্ত গোপনে বার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গাড়িগুলির গতিবিধি দেখে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা মাঝরাস্তায় সেগুলিকে আটকে দেন। তাঁদের সাফ প্রশ্ন, এত দিন ধরে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও গরিব মানুষদের জন্য পাঠানো এই সরকারি ত্রাণসামগ্রী কেন এবং কী উদ্দেশ্যে বিধায়কের ব্যক্তিগত গোডাউনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল?

জনগণের অভিযোগ, আমজনতার ট্যাক্সের টাকায় কেনা এই জিনিসপত্র গরিবদের বিলি না করে, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের পর এবার সেগুলিকে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছিলেন বিধায়ক। উত্তেজনার পারদ চড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সাঁকরাইল থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পরে সরকারি আধিকারিকেরা এসে প্রয়োজনীয় কিছু সরকারি নথি দেখালে বিক্ষোভ সাময়িক শান্ত হয়। তবে এর পরেই বিধায়ক প্রিয়ার হিরাপুরের পার্সোনাল গ্যারেজে হানা দিয়ে সেখান থেকেও থরে থরে সাজানো সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা। ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবার প্রিয়া পালের নিজের বাড়ি তল্লাশির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দলীয় ক্ষোভ ও তোলাবাজির অন্ধকার অতীত

বিজেপির দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পরই তৃণমূল বিধায়ক এই বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বাইরে পাচার করে টাকা তোলার ফন্দি এঁটেছিলেন। উল্লেখ্য, সাঁকরাইলের এই বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। মাসখানেক আগেই প্রিয়া পালের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ নানা কাটমানির অভিযোগ তুলে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কাশেম সিদ্দিকীকে নালিশি চিঠি পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলেরই একাংশ।

যদিও অতীতে সেই চিঠিকে পাত্তাই দেননি প্রিয়া। আর এবারও ত্রাণের পাহাড় উদ্ধারের পর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঁকরাইলের বিধায়ক। তাঁর অদ্ভুত সাফাই, “যে সব ত্রাণসামগ্রী গত বছর বিলি করা যায়নি, সেগুলো যাতে সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া হয়, সে জন্যই আমি নিজে জেলাশাসককে (DM) চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠির ভিত্তিতেই প্রশাসনের লোক এসে ত্রাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এর সঙ্গে দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই।” তবে বিধায়কের এই ‘ধোয়া তুলসী পাতা’র তত্ত্ব মানতে নারাজ হাওড়ার আমজনতা।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker