0%

নিট কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় দেশ! ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবার দেশব্যাপী আন্দোলনে রাহুলের

সবদিক নিউজ: জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, যা ভারতের জাতীয় রাজনীতিকেও ক্রমশ উত্তাল করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে একজোট করতে এক নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আবারও রাজপথে নামছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের এই নয়া উদ্যোগটি অনেকটাই তাদের পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে, তবে এবারের মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে জনসংযোগ স্থাপন করা। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ জুন থেকেই দেশব্যাপী এই নতুন আন্দোলন ও কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল এই কর্মসূচির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগামী ১৭ জুন দেশের অন্যতম প্রধান এবং বিখ্যাত কোচিং হাব রাজস্থানের কোটা থেকেই এই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন রাহুল গান্ধী। এরপর আগামী ১০ জুলাই এলাহাবাদ, ১১ জুলাই পাটনা এবং ১৪ জুলাই তিনি দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করবেন। এই সফরগুলোতে রাহুল গান্ধী মূলত নিট পরীক্ষার্থী, সাধারণ ছাত্রছাত্রী, সরকারি চাকরিপ্রার্থী, দেশের যুবসমাজ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সরাসরি টেবিলে বসে কথা বলবেন এবং তাঁদের নানা অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনবেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য রাজ্যের বিভিন্ন বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসেও তাঁকে এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যাবে। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী আগেই প্রশ্নফাঁসের নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন, আর এই নতুন কর্মসূচি থেকে সেই দাবিকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

এই দেশব্যাপী আন্দোলনকে সফল করতে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের নিচু তলার কর্মী ও সমস্ত সহযোগী দলীয় সংগঠনগুলিকে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এআইসিসি (AICC)-র পক্ষ থেকে কর্মীদের বিভিন্ন শিক্ষা ক্যাম্পাসে, নামী কোচিং সেন্টারে এবং স্কুল-কলেজে গিয়ে সাধারণ পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি এই দেশজোড়া আন্দোলনের বার্তা দ্রুত জনমানসে ছড়িয়ে দিতে সোশাল মিডিয়াকেও পুরোদমে কাজে লাগানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস মূলত নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে ফোকাস করেই এই সর্বভারতীয় আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছে। বেণুগোপালের মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের এমন চূড়ান্ত গা-ছাড়া মনোভাব ও দুর্নীতি অত্যন্ত নিন্দনীয়। কংগ্রেসের মূল দাবি হলো— নিটের প্রশ্নফাঁস সম্পূর্ণ বন্ধ করা, বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি বাতিল করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং সেই সঙ্গে সিবিএসই (CBSE)-র উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র বিতর্ক ও ছাত্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তখন এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও। দলের পক্ষ থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে এক বিশাল অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে বিপুল সংখ্যক সাধারণ পড়ুয়া ও অভিভাবক যোগ দেন। সেই প্রতিবাদ মঞ্চ থেকেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আর এই একই জ্বলন্ত ইস্যুকে সামনে রেখে এবার দেশজুড়ে বড়সড় গণ-আন্দোলনে নামতে চলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, যা ছাব্বিশের রাজনৈতিক আবহে মোদী সরকারের ওপর চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker