মধ্যরাতে রণক্ষেত্র হাবড়া স্টেশন! রেলের বুলডোজার অ্যাকশনে গুঁড়িয়ে গেল অজস্র দোকান-সিপিএম পার্টি অফিস

আত্মজিৎ চক্রবর্তী, হাবড়া: বঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বেআইনি দখলদারি রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ। হাওড়া, শিয়ালদহ, যাদবপুর কিংবা দমদমের পর এবার রেলের বুলডোজার অ্যাকশনের সাক্ষী হল উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন হাবড়া। পূর্ব রেলের দেওয়া ১৫ জুনের ডেডলাইন পার হতেই সোমবার মাঝরাতে হাবড়া স্টেশন চত্বরে নামল বিশাল বুলডোজার বাহিনী। একে একে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল লাইনের ধারে গজিয়ে ওঠা শয়ে শয়ে অবৈধ দোকানপাট। আর রেলের এই আচমকা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ঘিরে সোমবার গভীর রাতে হাবড়া স্টেশন চত্বরে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা।
রাত সাড়ে ১২টায় স্টেশন ঘিরে ফেলল কেন্দ্রীয় বাহিনী!
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ঠিক সাড়ে বারোটা নাগাদ সাধারণ মানুষের আনাগোনা কমতেই হাবড়া স্টেশন চত্বর পুরোপুরি নিজেদের কর্ডনে নিয়ে নেয় আরপিএফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। উপস্থিত ছিল বনগাঁ ও বারাসত জিআরপি (GRP) এবং রাজ্য পুলিশের বিশাল টিম। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর ঠিক আগে রেলের তরফে মাইকিং করে এলাকা খালি করার শেষ সুযোগ দেওয়া হয়। খবর পেয়ে মাঝরাতেই স্টেশনে ভিড় জমাতে শুরু করেন শয়ে শয়ে হকার। কিন্তু তাঁদের কোনও আকুতিতেই কান দেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। একে একে তিনটি বুলডোজার নামিয়ে লাইনের ধারের পাকা ও কাঁচা দোকানগুলি ভাঙা শুরু হয়।
ভাঙা পড়ল লাল পার্টির অফিস, রণক্ষেত্র স্টেশন চত্বর
রেল সূত্রের খবর, চলতি মাসের শুরুতেই হকারদের দোকান সরানোর আইনি নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হকাররা সেই কথা কানে তোলেননি। শুধু দোকানপাটই নয়, অভিযোগ, রেলের জমিতে একটি পাকা ঘর তৈরি করে চালানো হচ্ছিল সিপিএম (CPM)-এর একটি লোকাল পার্টি অফিস। সোমবার রাতের বুলডোজার অ্যাকশন থেকে রেহাই পায়নি সেটিও। বামেদের সেই দলীয় কার্যালয়টি নিমেষের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় রেল।
এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাম কর্মীরা। গভীর রাতেই স্টেশন চত্বরে লাল পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এলাকা খালি করতে গেলে রেল পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বামেদের দাবি, দেশের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এভাবে মাঝরাতে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে।
নিত্যযাত্রীদের স্বস্তি বনাম হকারদের কান্না
হাবড়া স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশন চত্বরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেআইনি হকারদের কারণে চরম বিশৃঙ্খলা ও যানজটের সৃষ্টি হতো। নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রেল এই বড় পদক্ষেপ নিল। তবে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের একাংশের পাল্টা অভিযোগ, বিকল্প পুনর্বাসন না দিয়ে এভাবে রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।



