পুলিশ ও আহত বিক্ষোভকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি কপিল সিবলের, FIR নিয়ে আশঙ্কা, গুরুগ্রামের হাসপাতালে ভর্তি করানো হল ওয়াংচুককে – সবদিক

সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবল। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভে আহত পুলিশকর্মী ও আন্দোলনকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর আশঙ্কা, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার মতোই এবারও ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁদের অভিযুক্ত করা হতে পারে।
এ দিকে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সফদরজঙ্গ হাসপাতাল ছুটি দিল সোনম ওয়াংচুককে। তাঁকে গুরুগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সফদরজঙ্গ হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, ছুটির সময়ে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
এক্স (X)-এ করা এক পোস্টে কপিল সিবল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন। নড্ডা দাবি করেছিলেন, আন্দোলনকারীদের তরফ থেকেই সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব এসেছিল। এর জবাবে সিবল লেখেন, অনশনরত ছাত্র-যুবকদের দাবি সবারই জানা ছিল। তাহলে সরকার কী করছিল? কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের জন্যই কি অপেক্ষা করছিল?
পরে সাংবাদিক বৈঠকে সিবল বলেন, প্রশ্নফাঁসের শিকার হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরাই আবার পুলিশের লাঠিচার্জেরও শিকার হয়েছেন। সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার চেষ্টা করেও তাঁরা লাঠির আঘাত পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিবল বলেন, দেশের প্রতিটি শহরে ছাত্র-যুবকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত, যাতে সরকার তাঁদের কথা শুনতে বাধ্য হয়। তিনি দাবি করেন, শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে সিবল বলেন, সেই সময় যাঁরা আহত হয়েছিলেন, তাঁদের অনেককেই পরে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সরকারের কাছে একাধিক প্রশ্নও তোলেন সিবল। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে আহত হয়েছেন বলে যে ১১৮ জন পুলিশকর্মীর কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের নাম, মেডিকো-লিগ্যাল রিপোর্ট এবং কীভাবে তাঁরা আহত হয়েছেন, সেই তথ্য প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি কোন বিক্ষোভকারী তাঁদের আঘাত করেছেন, তাও জানাতে হবে।
এছাড়া বিক্ষোভস্থলে পাথরবোঝাই ট্রাক এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান কীভাবে পৌঁছেছিল, তারও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বেছে বেছে ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে কঠোর আইনে মামলা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সংসদের দিকে মিছিল আটকাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। দিল্লি পুলিশের দাবি, ঘটনায় ১১৮ জনের বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রায় ৬০ জন আন্দোলনকারীও আহত হয়েছেন।
এদিকে আন্দোলনকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা। তাঁদের দাবিপত্র গ্রহণ করে সরকারের তরফে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



