বর্ষায় সুস্থ থাকতে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে রইল সতর্কতার তালিকা – সবদিক

বর্ষাকালে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, জলবাহিত সংক্রমণ এবং হজমের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। তাই এই সময় শুধু কী খাবেন তা নয়, কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি খাবার ও পানীয় বর্ষার সময়ে সীমিত রাখলে বা এড়িয়ে চললে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সবচেয়ে আগে আসে রাস্তার ভাজাভুজি ও খোলা খাবার। বৃষ্টির দিনে এগুলি খেতে ইচ্ছা করলেও, দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় থাকা বা অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি খাবারে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব সহজে জন্মাতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
– বিজ্ঞাপন –
অস্বাস্থ্যকরভাবে প্রস্তুত খাবার ও পানীয় থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে তৈরি ফলের রস, মিল্কশেক বা বরফ মেশানো ঠান্ডা পানীয়, যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরি না হয়, তবে সেগুলি জলবাহিত বা খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই কারণে আধ-সেদ্ধ বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা খাবারও এড়ানো উচিত।
বর্ষায় অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়াও সমস্যার কারণ হতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটি, বদহজম বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝাল ও মশলাদার খাবার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়াই ভালো।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অতিরিক্ত লবণ শরীরে জল ধরে রাখার প্রবণতা বাড়াতে পারে, ফলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। যদিও সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত লবণ গ্রহণ স্বাভাবিক, তবু অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়ানোই বাঞ্ছনীয়।
সামুদ্রিক খাবার নিয়েও কিছু সতর্কতা রয়েছে। বর্ষাকাল অনেক সামুদ্রিক মাছ ও শেলফিশের প্রজননের সময়। এই সময়ে কিছু সামুদ্রিক খাবারে দূষণ বা সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে, বিশেষ করে সেগুলি যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা রান্না না করা হয়। তাই বিশ্বস্ত উৎস থেকে কেনা এবং ভালোভাবে রান্না করা সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কাঁচা বা আধ-সেদ্ধ সামুদ্রিক খাবার এড়ানো উচিত।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে তাজা, গরম এবং ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কোনও ধরনের খাদ্যবাহিত অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



