0%

জন্মদিনের আগেই খুশির হাওয়া ইস্টবেঙ্গলে, বিপক্ষকে ৮ গোলের মালা হাবাস ব্রিগেডের

ডার্বিতে হেরে ডুরান্ড অভিযান শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দুরন্ত ছন্দে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে সিআইএসএফ প্রোটেক্টরসের বিরুদ্ধে ম্যাচটা মশাল ব্রিগেডের জন্য কার্যত ‘মরণবাঁচন’ ছিল। সেই ম্যাচ হেসে খেলে জিতল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। জন্মদিনের প্রাক্কালে বিপক্ষকে ৮-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল।

শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে লাল-হলুদ। বিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভেঙে গোলের দরজা খুলতে সময় লেগেছিল বটে। তবে একবার গোলমুখ খুলতেই একের পর এক গোল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে সিআইএসএফ-কে কার্যত গুঁড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। শুরু থেকেই রক্ষণ জমজমাট রেখে খেলছিল সিআইএসএফ। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ আটকানোই যেন ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। ৬ মিনিটে এডমুন্ডের শট ব্লক হয়ে যায়। তার পর হার্দিকের ক্রসও বিপদমুক্ত করে সিআইএসএফের রক্ষণ। কিছুক্ষণ পর এডমুন্ডের কাটব্যাক থেকে জিয়াকসনের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৩ মিনিটে ফের সুযোগ। এডমুন্ডের শটের সামনে শরীর ছুড়ে দিয়ে দলকে বাঁচান যতীন্দর। ২৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোলের সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের। বেবেত্তোর ফাউলের পর দানি রামিরেসের নেওয়া ফ্রি-কিক অবশ্য দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন সিআইএসএফ গোলরক্ষক রাজ। পরের মিনিটেই ফের জোড়া সেভ। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস সামলানোর পর রশিদের শটও আটকে দেন রাজ। একাই তখন সিআইএসএফকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৩৮ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। বক্সের মধ্যে এডমুন্ডের কাটব্যাক। সামনে বিষ্ণু। এক মুহূর্ত দেরি না করে ব্যাকহিলে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। রাজকে কার্যত দাঁড় করিয়ে রেখে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন বিষ্ণু।

দ্বিতীয় গোলের জন্য অবশ্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ৪২ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে বিষ্ণুর নিচু ক্রস। সিআইএসএফ অধিনায়ক খালিদের গায়ে লেগে বলের দিক বদলে যায়। তার পর রাজকে ছুঁয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়েই তৃতীয় গোল জিকসনের। বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে কার্যত ম্যাচের ছবি বদলে দিয়েছে লাল-হলুদ। 

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। বাঁ-প্রান্ত থেকে সন্দীপ মান্ডির মাপা ক্রস থেকে দুরন্ত ওভারহেড কিকে বল জালে জড়িয়ে দেন পি ভি বিষ্ণু। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে ডান দিক থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে গোল করে স্কোর লাইন ৫-০ করেন বিপিন সিং। ৭০ মিনিটে ডান দিক থেকে পাওয়া দুর্দান্ত থ্রু বল ধরে গোলরক্ষক রাজ মাথুরকে পরাস্ত করে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৬-০ করেন জেসিন টিকে। হাফডজন গোলেও খিদে কমেনি লাল-হলুদ ফুটবলারদের। ৭৩ মিনিট আবারও রাজ মাথুরকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোলটি করেন জেসিন। তার ঠিক দু’মিনিট পর বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে সহজ ফিনিশে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বিষ্ণু। স্কোরলাইন তখন ৮-০। একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে জয় নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল। তবে এত বড় ব্যবধানের জয়েও লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠা হল না তাদের। মোহনবাগান বিরুদ্ধে হারের কারণে হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখনও পিছিয়ে লাল-হলুদ। ফলে দ্বিতীয় স্থানেই থাকতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে। সাউথ ইউনাইটেডকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেই সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেই নামবে ইস্টবেঙ্গল।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker