অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, মোহনবাগানকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন? হাবাসের ‘ভুলে’ নিভল ইস্টবেঙ্গল

৭-২ চূর্ণ করে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে উঠেছে দল। তাই কি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল? বৃহস্পতিবার ডার্বি হারের পর ঠিক এই প্রশ্নটাই করছেন লাল-হলুদ ভক্তকুল। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে যে ফুটবলাররা গোলের ফুলঝুরি ছুটিয়েছিলেন, তাঁদের প্রথম একাদশে না রেখেই এদিন দল নামিয়ে দিলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। জাতীয় দলে খেলে আসার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে আনোয়ার আলিদের বসিয়ে রাখলেন বেঞ্চে। ফল? টান দু’বার শিল্ড জিতে নিল মোহনবাগান।
ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ফালাফালা করে দিয়েছিলেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। এদিনও অনায়াসে সেটাই করে ফেলবেন, বোধহয় এমনটা ধরে নিয়েছিলেন সদ্য ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলে আসার পর। গত ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা ডেভিড লালসাঙ্গহাকে বসিয়ে এডমুন্ডের উপর ভরসা রেখেছিলেন হাবাস। কিন্তু এদিন একেবারে হতশ্রী পারফরম্যান্স। মাঠে একেবারে খুঁজেই পাওয়া গেল না গত ডার্বির নায়ককে।
অফ ফর্মের ‘অসুখ’টা যেন গোটা ইস্টবেঙ্গল শিবিরকেই কাবু করে ফেলেছিল এদিন। মহম্মদ রশিদের খেলায় চেষ্টার অভাব ছিল। রামিরেজ, বিপিন, জিকসন- সকলেই এদিন একসঙ্গে ব্যর্থ। পুরো ম্যাচটা বেঞ্চে বসে আনোয়ার দেখলেন, তাঁকে ছাড়া ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ কেমন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। হার্দিক-চুংনুঙ্গারা চেষ্টাও করলেন না সবুজ-মেরুন ফরোয়ার্ডদের আটকাতে। ডার্বি ফলাফল যে লাল-হলুদের পক্ষে লজ্জাজনক হল না, তার একমাত্র কারণ গোলকিপার লাচেনপা। একাধিক গোল রুখলেন তিনি। হতাশার ম্যাচে একমাত্র তিনিই লাল-হলুদের আশার আলো।
দল হিসাবে মোহনবাগানকে এদিন অনেক সংঘবদ্ধ দেখাচ্ছিল। জাতীয় দলে খেলে আসা অধিকাংশ ফুটবলারই এদিন নামলেন মাঠে। শুভাশিস বসুকে বসিয়ে অভিষেক থেকচামকে খেলানোটাই প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিসের মাস্টারস্ট্রোক। অভি মিতেই একাই লাল-হলুদের আক্রমণ রুখে দিলেন। রক্ষণ জমাট বাঁধতেই মাঝমাঠে আত্মবিশ্বাস বাড়ে সমীর জেলকোভিচদের। প্রায় গোটা ম্যাচেই মাঝমাঠ ছিল মোহনবাগানের দখলে। ইস্টবেঙ্গল দাঁতই ফোটাতে পারেনি। শেষ দিকে মিনিট কুড়ি আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন বটে রশিদরা। কিন্তু মোহনবাগান রক্ষণের সামনে সাফল্য আসেনি। ডুরান্ডে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক বেশি উদ্যমী এবং ফোকাসড দেখাল মোহনবাগানকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারের পর লাল-হলুদ ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভোগার মতো ভুলটা কেন করলেন হাবাসের মতো কোচ? তাহলে কি মরচে পড়ছে তাঁর মগজাস্ত্রে?
শেয়ার
লিংক



