Anit Thapa Resigns GTA Chairman Suvendu Adhikari GTA Files

সবদিক নিউজ: মঙ্গলবারই পাহাড়ের মাটি থেকে দাঁড়িয়ে ‘জিটিএ (GTA) দুর্নীতি’ নিয়ে এক বিস্ফোরক ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর সেই হাই-ভোল্টেজ হুঁশিয়ারির ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বুধবার পাহাড়ের রাজনীতিতে ঘটে গেল এক চরম রাজনৈতিক ভূমিকম্প। গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন বা জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ (Chairman) পদ থেকে আকস্মিকভাবে ইস্তফা দিলেন অনীত থাপা (Anit Thapa)। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর যেখানে মনে করা হচ্ছিল অনীত থাপা আইনি লড়াইয়ের পথে যাবেন, সেখানে তাঁর এই আচমকা ইস্তফায় রীতিমতো স্তম্ভিত উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।
২৪ ঘণ্টার থ্রিলার, কেন এত ভয় অনীতের?
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের একই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে হাসিমুখে দেখা গিয়েছিল পাহাড়ের একদা ‘কিং মেকার’ বিমল গুরুংকে। সেই মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন, “বিগত দিনে জিটিএ-র আড়ালে যে বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকার লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, তার ফাইল এবার খোলা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম বাউন্সার সামলাতে না পেরে বুধবার সকালেই পদত্যাগপত্র জমা দেন অনীত। পাহাড়ের ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি বা সিবিআই-এর হাত থেকে বাঁচতেই এবং নিজেকে ‘স্বচ্ছ’ প্রমাণ করার মরিয়া তাগিদেই এই কৌশলগত পদত্যাগের রাস্তা বেছে নিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে বড় চাল, তদন্তকে স্বাগত জানালেন বিদায়ী চেয়ারম্যান
পদত্যাগের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Facebook) একটি দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন অনীত থাপা। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে লিখেছেন, “জিটিএ নিয়ে যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, আমি তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমি চাই দুধের দুধ আর জলের জল আলাদা হোক। তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে চলতে পারে এবং কোনওরকম রাজনৈতিক প্রভাব না খাটে, সেই কারণেই আমি নৈতিক দায়িত্ব মেনে স্বাচ্ছন্দ্যে এই পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।”
পাহাড়ে এবার একচ্ছত্র রাজত্ব কি বিমল গুরুংয়ের?
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে পুরোপুরি ‘ওয়াশ আউট’ করে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে ৩টি আসনই ছিনিয়ে এনেছেন বিমল গুরুং ও জিএনএলএফ জোট। ভোটে হেরে অনীত থাপার দল ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’ (BGPM) আগেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল। এবার শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিটিএ ফাইলস’ খোলার হুঙ্কারে অনীতের এই পতন পাহাড়ের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল। অনীতের ইস্তফার পর পাহাড়ে এখন বিমল গুরুংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




