Aparajita Adhya: রাহুলের শ্রাদ্ধ না হতেই কাজে প্রিয়াঙ্কা, অভিনেত্রীকে কটূক্তি! টক্সিক কালচারের বিরুদ্ধে সরব অপরাজিতা

রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে নানা আলোচনা জন্ম নিয়েছিল সমাজ মাধ্যমে। মানুষ নিজের মত করে, নানা কিছু বলেছেন। কখনও প্রিয়াঙ্কা কেন হাসছেন এই কথা বলেছেন, আবার কখনও কেন প্রিয়াঙ্কা শেষকৃত্য সেরে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর হাসিমুখে বেরলেন সেই কথাও হয়েছে।
আবার কিছুদিন আগেই প্রিয়াঙ্কা কাজে ফিরেছেন। তিনি শুটিং ফ্লোরে পা রেখেছেন। এবং ছেলে সহজকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে যাতে তাঁকে মানিয়ে নিতে না হয়, তাই তাঁকেও সময় দিচ্ছেন যথেষ্ট। তারকাদের অনেকেই রাহুলের মৃত্যুতে মুখ খুলেছেন, জাস্টিস চেয়েছেন। তবে, অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য যেন সমাজ মাধ্যমের কটূক্তি এবং ভয়ঙ্কর চেহারা দেখে ক্লান্ত। তিনি তাই তো, সকলে যারা প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশ্যে বা যে কোনও মানুষকে নিয়ে ছোটবড় কথা বলেন, তাঁদের নিয়েই বক্তব্য রাখলেন। অভিনেত্রীর মন্তব্য ঠিক এমনই…
Asha Bhosle: ‘কে আমার জন্য অপেক্ষা করবে’, ঠাকুমা আশা ভোঁসলেকে হারিয়ে শোকে কাতর নাতনি জানাই
“আজ আর চুপ করে থাকা গেল না। অনেকদিন ধরে নিজের ভেতরে জমে থাকা একটা কথাই যেন আজ বাইরে আসতে চাইছে। সমাজমাধ্যমে আমরা প্রতিদিন যে জগৎটা দেখি, সেটা কি সত্যিই মানুষের তৈরি? নাকি ধীরে ধীরে সেটা এক অদৃশ্য অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে? আমি দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি—comment section-এ এমন এক ভয়ঙ্কর অসুখ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মানুষ মুখের লাগাম হারিয়ে ফেলেছে। যে যা খুশি বলছে, কোনো দায়বদ্ধতা নেই, কোনো মানবিকতা নেই। এতটাই নির্মম, এতটাই নোংরা সেই শব্দগুলো—যে একসময় নিজের comment section বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হলাম।”
শাহরুখের KKR নয়, প্রীতিকে খোলা সমর্থন সলমনের, কিন্তু কেন এত দেরি? প্রশ্ন নেটপাড়ায়
তিনি যেন ভীষণ অবাক হয়েছেন। কারা এই ধরণের মানুষ? যাদের মনুষ্যত্ব বলে কিছু নেই? যারা নিজেদের লাগাম না জেনেই এসব বলেন? রাহুলের মা এবং প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে যে ধরণের খারাপ মন্তব্য ছড়িয়েছে, তাতে তিনি সোজাসুজি বলছেন… “কখনও ভেবেছি- এরা কারা? সত্যিই কি এরা মানুষ? কারণ একজন মানুষ কখনও অসুস্থ মায়ের ছবি দেখে লিখতে পারে না, “কী কুৎসিত দেখতে!” একজন মানুষ কখনও স্বামীহারা এক নারীর কাজে ফেরাকে ব্যঙ্গ করে বলতে পারে না, “শ্রাদ্ধ হয়নি, এখনই কাজে ফিরল?” এগুলো কোনো মতামত নয়- এগুলো সরাসরি মানসিক নির্যাতন, মানসিক হিংসা। আমি একে একটাই নাম দিই- Mental Violence, এমনকি Mental Rape।”
তবে, এইমধ্যেই তিনি সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন একটা কারণেই। যারা এই ধরণের সমালোচনা করছেন, তাঁদের মধ্যে নারীরাই বেশি। মেয়েরাই মেয়েদের মান নষ্ট করছেন- এমনটাই বক্তব্য তাঁদের। অপা বলছেন… “সবচেয়ে বেশি অবাক লাগে যখন দেখি, এই ভিড়ের মধ্যে অনেক নারীও আছেন- যারা নিজেরা সংসার করেন, সন্তান বড় করেন, অথচ বুঝতে চান না যে তাঁদের এই নোংরা মানসিকতা আগামী প্রজন্মকে কী শেখাচ্ছে। কোথাও একটা বিশ্বাস জন্মায়- যারা এভাবে অন্যকে অপমান করে, তারা নিজের জীবনে হয়তো কখনও সম্মান পায়নি। তাই অন্যকে ছোট করাটাই তাদের সহজ পথ হয়ে গেছে। কিন্তু এটা আর ‘ignore’ করার সময় নয়। এই কথাগুলো মানুষকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়, depression-এর দিকে ঠেলে দেয়, এমনকি অনেক সময় suicidal অবস্থায় নিয়ে যায়। এটা শুধু online behaviour নয়- এটা সমাজকে ধীরে ধীরে ভিতর থেকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা ভুলে যাচ্ছি- freedom of speech মানে যা খুশি বলার লাইসেন্স নয়। এরও একটা সীমা আছে, দায়বদ্ধতা আছে, আইন আছে। তবু তার থেকেও বড় কথা- মানবিকতা আছে। আজ মনে হচ্ছে, এতদিন চুপ থাকা ভুল ছিল। কারণ চুপ থাকা মানে সম্মান নয়, চুপ থাকা মানে এই নোংরামিকে মেনে নেওয়া।”



