Bangladeshi couple arrested from Howrah

রাজ্যে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি চালুর পর গ্রেপ্তার বাংলাদেশি দম্পতি। জগাছার উনসানি এলাকা থেকে ওই বাংলাদেশি দম্পতিকে পাকড়াও করে পুলিশ। শনিবার রাতে বছর ছত্রিশের রমজান গাজি এবং ৩৪ বছর বয়সি আরিফা বেগমকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। তাদের চার সন্তান-সহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, তাদের বাড়িতে হানা দেয় জগাছা থানার পুলিশ। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে ওই দম্পতিকে। সঙ্গে ছিল তাদের চার শিশু। আটক চার শিশুর মধ্যে দু’জনের বয়স ৭ এর বেশি হওয়ায় তাদেরকে পাঠানো হয় লিলুয়া হোমে। বাকি দু’জনের বয়েস সাতের কম হওয়ায় তারা মায়ের সঙ্গেই রয়েছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
পুলিশ সূত্রে খবর, বছর ১৪ আগে সীমান্ত পেরিয়ে ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় চলে আসে রমজান গাজি ও আরিফা বেগম। তাদের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার রতনপুরে। দালালদের মোটা টাকা দিয়ে এই রাজ্যে তারা ঢোকে। এরপরই জগাছা থানার উনসানি মাঝেরপাড়াতে থাকতে শুরু করে। রমজান এলাকায় ডাব এবং তাল বিক্রি করত। ২০১৪ সালের পর ওই দম্পতি নকল কাগজপত্র দেখিয়ে রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং পাসপোর্ট করিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। এমনকী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা ভোট দেন বলেও জানতে পারে পুলিশ। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাদের নাম বাতিল হয়। এবারের বিধানসভা ভোট তারা দিতে পারেনি।
বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে শনিবার রাতে জগাছা থানার পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা শুরু করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হয়। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট বিল্ডিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, হাওড়া স্টেশন থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের খাইয়ে দাইয়ে যেন সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপরই হাওড়াতে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে। চার সন্তান-সহ এই দম্পতিকেই প্রথম পাকড়াও করে। তবে তাদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি মেনে কেন বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হল না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তবে কি এখনও পুলিশ মহলে পৌঁছয়নি মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দুর নির্দেশিকা, তুঙ্গে চাপানউতোর।
এই বিষয়ে আরও খবর
শেয়ার
লিংক



