school students of Mayapur served 56 bhog after the day of Rathyatra

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মিড ডে মিল নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে। ১ আগস্ট থেকে এই কাজ শুরু হবে। পরে জেলার স্কুলগুলিতেও ইসকনের উদ্যোগে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তার আগেই ইসকনের রান্না করা ৫৬ ভোগের স্বাদ পেল মায়াপুরের একটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। রথের পরদিন, শুক্রবার ঠাকুর ভক্তি বিনোদ ইনস্টিটিউটে মিড ডে মিলে পরিবেশন করা হল জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদস্বরূপ ৫৬ ভোগ। আনন্দের সঙ্গে তা চেটেপুটে খেল পড়ুয়ারা।
নদিয়া তথা মায়াপুরের রথযাত্রা বরাবর বিখ্যাত। চলতি বছর তা আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। রথের পরদিন, শুক্রবার মায়াপুরের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মায়াপুর ঠাকুর ভক্তি বিনোদ ইনস্টিটিউটে ইসকনের রান্না করা ৫৬ ভোগ পরিবেশন করা হল মিড ডে মিলে। মহাপ্রসাদস্বরূপ তা পড়ুয়াদের দিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদেরই উদ্যোগে এদিনের এই বিশেষ মিড ডে মিল। কী না ছিল ৫৬ ভোগে? নানারকম ফল, মিষ্টি, খাজা, পাটিসাপটা থেকে শুরু করে ফ্রায়েড রাইস, একাধিক ভাজা, শাক, তরকারি – গুনে শেষ করা যায় না। সেসবই ছাত্রছাত্রীরা চেটেপুটে খেল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্যগোপাল মণ্ডল জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যৌথ আর্থিক সহযোগিতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এই বৃহৎ আয়োজন সম্ভব হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ জনের জন্য এই বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও অংশ নেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১,১৭৮ জন পড়ুয়া এবং ৩৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিদিন মিড ডে মিলে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়। রথযাত্রার পরদিন ৫৬ ভোগ যেন বিশেষ স্বাদ দিল। এটাই বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যস, তাও জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রশাসক তথা নদিয়া নর্থ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক জানবাস শেখের বক্তব্য, এই ধরনের উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিশেষ খাবার পরিবেশন নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা। তাঁর কথায়, ‘‘এমন আকর্ষণীয় আয়োজন পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।” এই বিশাল আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন মিড ডে মিলের নিয়মিত ৯ জন রাঁধুনি। শুক্রবার ভোর পাঁচটা থেকেই শুরু হয় ৫৬ পদের রান্না। রাঁধুনিদের পক্ষে অসীমা বিশ্বাস জানান, প্রতি বছরই তাঁরা এই বিশেষ রান্নার দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রছাত্রীদের হাতে মহাপ্রসাদ তুলে দিতে পেরে তাঁরা গর্বিত এবং আনন্দিত। শিক্ষকদের উদ্যোগ, রথযাত্রার ঐতিহ্য এবং মিড ডে মিলকে একসূত্রে বেঁধে মায়াপুরের এই বিদ্যালয় আবারও নজির গড়ল। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ভক্তির অনন্য মেলবন্ধনে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শেয়ার
লিংক



