0%

TMC MPs: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে গোপন বৈঠক তৃণমূল সাংসদদের, নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুভেন্দু

ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে তৃণমূল সাংসদদের গোপন বৈঠকImage Credit: TV9 Bangla

নয়া দিল্লি: ইন্ডি জোটের বৈঠক চলাকালীনই গোপন বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ সাংসদরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ সংসদরা বৈঠক করছেন  ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে।  জানা যাচ্ছে, ৯ নম্বর মতিলাল নেহেরু মার্গ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনেই বৈঠকে বসেছেন বিক্ষুব্ধ ১২ সাংসদ। এখানেই দুপুরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই তিনটি গাড়িতে পৌঁছন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা।   সুখেন্দু শেখর রায় এদিন পদত্যাগ করে গিয়েই ফোন সুইচ অফ করে দেন। তিনি বলেই গিয়েছিলেন, তৃণমূল থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তৃণমূল ভাঙানোর রাজনীতিতেও যে তিনি সক্রিয়, তা খানিকটা এই ছবিতেই স্পষ্ট। রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে উপ রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই এই বাসভবনে পৌঁছে যান সুখেন্দু শেখর।

কেন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক?

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার নির্বাচনে একেবারে রণকৌশল সাজানোর কারিগর। নেপথ্যে নেথে গোটা রণকৌশল নির্ধারণ করেছেন তিনি।

কারা কারা রয়েছেন বৈঠকে?

সুখেন্দু শেখর রায় ছাড়াও এই বৈঠকে রয়েছে শর্মিলা ঠাকুর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসু নিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী। পাশাপাশি রয়েছেন অসিত মাল, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, অসিত মাল। এদিনের বৈঠকের পর তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করেন কিনা, সেটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কী কী বিষয় ফ্যাক্টর?

যে সংখ্যক সাংসদরা উপস্থিত রয়েছেন, তা নিয়ম অনুযায়ী, দুই তৃতীয়াংশের গণ্ডি পেরোচ্ছে না। তাই তাঁদেরই এখনই ব্লক ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আরও কয়েকজন এই বৈঠকে আছেন বলেও সূত্রের খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, যদি এই সাংসদরা বিজেপির সঙ্গে সরাসরি ‘মার্জ’ করে যান, তাহলে দলত্যাগবিরোধী আইনে তাঁদেরকে আটকানো কোনওভাবেই সম্ভব হবে না।

কিন্তু যদি তাঁরা লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা হিসাবে মানছেন না, সেক্ষেত্রে তাঁরা আলাদাভাবে একটি ব্লক তৈরি করতে চান, তার জন্য নেতা নির্বাচন করেন, সেটা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে তা সম্ভব নয়। কারণ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে যিনি দলনেতা হবেন, সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই রয়েছে। স্পিকার ব্লককে স্বীকৃতি দেন, তাহলে আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা ছিল। যেহেতু প্রথম থেকেই বিজেপি বলে আসছিল, তারা তৃণমূলের কোনও সাংসদকেই দলে নেবেন না, সেক্ষেত্রে ‘মার্জ’ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ ছিল। কিন্তু এদিনের বৈঠকের পরই গোটা বিষয়টা জলের মতো পরিষ্কার।

‘ইচ্ছার ঐক্য মিলে যায়’

বেলা দুটো নাগাদ বৈঠক শেষ হয়। প্রথমেই বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরা। যদিও তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। এই বৈঠক প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা ইচ্ছার ঐক্য।  আমাদের লেজিসলেটিভ পার্টির যাঁরা সদস্য, আমাদের ইচ্ছার ঐক্য বোধহয় দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমার সঙ্গে লোকসভার বেশ কয়েকজন সাংসদের গতকাল কথা হয়েছিল, ফোনেই কথা হয়। তখন তাঁরা আমাদের বক্তব্যগুলোর সঙ্গে সহমত ছিলেন। পার্লামেন্টারির পার্টির অধিকাংশ মেম্বার যদি একত্রে বসেন, তার থেকে ভাল আর কী হতে পারে!”

বিজেপি কি তৃণমূল সাংসদদের তবে নিচ্ছে দলে?

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই বলতাম তৃণমূলে প্রচুর পরিমাণে অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে, তা আরও প্রকট হচ্ছে। এই দলে আর কেউ থাকতে চাইছে না। পাপের ভাগীদার আর কেউ হতে চাইছে না।” তৃণমূলের কাউকে কি তাহলে নেবেন? এ বিষয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিষয়টি জানাতে পারবেন বলে জানালেন সুকান্ত মজুমদার।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker