0%

Toll culture stopped totally in Birbhum after BJP govt comes to power

১৫ বছরের তৃণমূল জমানার রমরমা এক মুহূর্তে শেষ! গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বীরভূম জেলা জুড়ে একাধিক টোল আদায় বন্ধ। একপ্রকার ঝাঁপ বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন দীর্ঘদিন অভিযোগ থাকা টোল আদায়কারীরা। জেলা জুড়ে পুরসভা, গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদের অধীনে থাকা সমস্ত টোল আদায় বন্ধ। যদিও টোলগুলির বৈধতা নিয়ে রয়েছে একাধিক বিতর্ক। কিন্তু টোল বন্ধে খুশি  জেলার পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে সমস্ত বেআইনি টোল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু একমাত্র এই জেলায় রাজনৈতিক পাশাবদলাতেই বদলে যায় ছবিটা! 

জেলার পরিবহন ব্যবসায়ীদের দাবি, বোলপুর থেকে সিউড়ি, দুবরাজপুর থেকে রামপুরহাট গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সেতু পুরসভার সংযোগস্থলে একাধিক টোলে দিতে হত চাঁদা। কোথাও ট্রাক পিছু ৫০ টাকা, আবার কোথাও ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হতো টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন গাড়ির জন্য ছিল আলাদা আলাদা রেট! তবে দীর্ঘ কয়েক বছর কোন খাতে এই টাকাগুলি জমা হত, কীভাবেই বা পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং জেলা পরিষদ তহবিল থেকে খরচা করা হতো তা স্পষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপির দাবি, এক প্রকার জোড় জুলুম করেই তৃণমূলের একাংশ কর্মী সমর্থকরা এই চাঁদা আদায় করত। স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এই টোল থেকে প্রতিদিন প্রায় কয়েক লাখ টাকা চাঁদা জমা হত তৃণমূলের তহবিলে। টোল আদায় সম্পূর্ণ অনুব্রত মণ্ডল দেখভাল করতেন বলেও অভিযোগ বিজেপির।

বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল বলেন, ”সরকারিভাবে টোল আদায় হলে আপত্তি নেই। কারণ সেই টাকা জমা পড়বে সরকারি কোষাগারে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে অর্থ আদায় কিংবা জোরপূর্বক চাঁদা তোলার সংস্কৃতি যেন ফিরে না আসে।” ব্যবসায়ীরা বলেন, ”সরকারি টোলের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে টাকা আদায় করা হতো। সেই কারণেই হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত পরিবহণ খরচ হত। আর তার প্রভাব পড়ত সাধারণ মানুষের উপর। এই অবস্থায় পরিবহনের খরচ কমলে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও কম হবে।”

বছরের পর বছর বোলপুর পুরসভার অধীনে শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে ছ’টি টোল কাউন্টার চালু ছিল। বাইরে থেকে শহরে প্রবেশ কিংবা শহর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া গাড়ির কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়া হত। ছোট গাড়ি থেকে পণ্যবাহী যান সবক্ষেত্রেই আলাদা হারে টোল আদায় চলত। দিন-রাত মিলে কয়েক লক্ষ টাকা আদায় হত। আর এই টোল ব্যবস্থাকে ঘিরে অতীতে একাধিকবার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে রসিদও দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে বচসা, মারপিট থেকে শুরু করে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, বোলপুর পুরসভার নামে রশিদ ছাপিয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্ট নাসির শেখ দীর্ঘদিন ধরে নাকি টোল আদায় পরিচালনা করতেন। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি বোলপুরে বাসভবন ছেড়ে উধাও বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। টোল আদায় বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে জেলা জুড়ে প্রবেশ করছে লরি ও ডাম্পার-সহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যান। গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় না হওয়ায় যানজটও অনেকটাই কমেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker