অভিষেকের মা ও লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসকে জোড়া নোটিশ, নেওয়া হল কড়া পদক্ষেপ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীকে (Abhishek Banerjee) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে অভিষেকের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত দুটি সম্পত্তিতে নোটিশ পাঠিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
অভিষেককে (Abhishek Banerjee) কী নোটিশ পাঠাল পুরসভা?
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে থেকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। অন্যটি পাঠানো হয়েছে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার উদ্দেশে। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারার ভিত্তিতে এই নোটিশ জারি হয়েছে। ওই আইনে উল্লেখ রয়েছে, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ করা হলে পুর কমিশনার সেই অংশ ভাঙার নির্দেশ দিতে পারেন অথবা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে পারেন।
পুরসভার সূত্রে খবর, অবৈধ নির্মাণের জেরে মালিকপক্ষকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দলীয় বৈঠকে এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমার বাড়ি ভাঙুক, নোটিশ পাঠাক, যা খুশি করুক আমি মাথা নত করব না। বিজেপির বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবে।”
নোটিশে ভবানীপুর এলাকার ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোডের কথা উল্লেখ আছে। পুরসভার অভিযোগ, ওই দুই সম্পত্তিতে অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে অতিরিক্ত অংশ তৈরি হয়েছে। পুরসভার এই নোটিশের দরুন মালিকপক্ষকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয় সেই অংশ ভেঙে ফেলার জন্য। কোন সদুত্তর না পাওয়া গেলে, পুরসভার নিজেই সেই ভাঙ্গার কাজ করবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে। এমনকি বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদিত নকশা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাচক্রে, কয়েক দিন আগেই ফলতার নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে সরব হয়ে বলেছিলেন, “আপনার লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডসের ২৪টি প্রপার্টি কলকাতায়। আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস! …হিসাব হবে।” তাঁর ওই মন্তব্যের পরেই পুরসভার নোটিশ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : অভিষেক, সোনা পাপ্পু, জাভেদ খানের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে! কড়া ‘দাওয়াই’ দিতে ময়দানে শুভেন্দু সরকার
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন ও সাদা করা হয়েছে। সেই সূত্রে অতীতে অভিষেককে তলবও করা হয়েছিল। এ বার সেই সংস্থার সম্পত্তিকে ঘিরে পুরসভার পদক্ষেপে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।



