0%

এআই খরচ সামলাতে বড় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা মেটার, চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী – সবদিক

মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা বড় আকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বলে খবর। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থার মোট কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশের উপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে মেটায় প্রায় ৭৯ হাজার কর্মী কাজ করেন, যার মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের চাপ সামলাতেই এই পদক্ষেপ নিতে পারে মেটা। সংস্থার ডেটা সেন্টার তৈরিতে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সংস্থা ধীরে ধীরে এআই-নির্ভর কাজের মডেলে ঝুঁকছে।

এই ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ‘রিয়্যালিটি ল্যাবস’ বিভাগে। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি হেডসেট এবং মেটাভার্স প্রকল্প নিয়ে কাজ করা এই বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। ফলে খরচ কমানোর জন্য এই বিভাগে কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া সংস্থার এমন কিছু টিমেও কর্মী সংখ্যা কমানো হতে পারে, যেগুলি সরাসরি মেটার নতুন এআই উদ্যোগ বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’-এর সঙ্গে যুক্ত নয়। মেটার সাম্প্রতিক আয়ের রিপোর্ট প্রকাশের সময় মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছিলেন, এআই টুলের কারণে এখন অনেক ক্ষেত্রেই একজন দক্ষ কর্মী আগের তুলনায় বড় টিমের কাজ একাই করতে পারেন। এর ফলে বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানো সম্ভব হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মাঝারি স্তরের ব্যবস্থাপনা, কিছু এআই গবেষণা বিভাগ এবং শেয়ার্ড সার্ভিস ও অপারেশনস টিমেও প্রভাব পড়তে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়াতে মেটা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তর কমিয়ে আনতে চাইছে বলেও জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক ও রুটিন অপারেশনাল কাজের ক্ষেত্রেও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। কারণ সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাজেও এআই-সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত এই ছাঁটাইয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মেটা জানিয়েছে, এই বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা ‘অনুমাননির্ভর’ এবং সংস্থার তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker